এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : 21 June 2026, 5:42 PM
দেশের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরো শক্তিশালী করতে আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার ধাত্রী (মিডওয়াইফ) নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এ তথ্য জানিয়েছেন।
রবিবার (২১ জুন) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি। পর্তুগালের লিসবনে অনুষ্ঠিত ৩৪তম ইন্টারন্যাশনাল কনফেডারেশন অব মিডওয়াইভস (আইসিএম) ট্রায়েনিয়াল কংগ্রেসে অংশগ্রহণসহ সাম্প্রতিক ইউরোপ সফর নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, বর্তমানে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা মূলত চিকিৎসানির্ভর। সরকার এটিকে ধীরে ধীরে রোগ প্রতিরোধভিত্তিক ব্যবস্থায় রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক ওই সম্মেলনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি জানান, দেশের প্রতিটি মানুষের কাছে, বিশেষ করে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ব্যাপক জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। একইসঙ্গে মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ধাত্রী নিয়োগ বাড়ানো হবে, যাতে গর্ভবতী নারীরা স্থানীয় পর্যায়েই নিরাপদ প্রসবসেবা পান।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ে তোলা হবে। শহরাঞ্চলের প্রতিটি ওয়ার্ডেও থাকবে একই ধরনের কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ব্যবস্থা থাকবে এবং অন্তত দুজন করে ধাত্রী দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ৩০ থেকে ৫০ শয্যা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। বিশেষ করে জটিল প্রসব এবং নবজাতকের চিকিৎসাসেবা উপজেলা পর্যায়েই নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে রোগীদের জেলা বা রাজধানীমুখী হতে না হয়।
বর্তমানে দেশে প্রায় তিন হাজার ধাত্রী কর্মরত আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ইউনিয়নের জন্যই ১১ হাজারের বেশি ধাত্রীর প্রয়োজন হবে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল এবং বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও ধাত্রী নিয়োগ দিতে হবে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অধিকাংশ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এখনও স্বাভাবিক প্রসবের জন্য আলাদা ধাত্রীনির্ভর ইউনিট গড়ে ওঠেনি। ভবিষ্যতে এ ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ প্রসঙ্গে জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপিসহ প্রায় ৪১ থেকে ৪২ হাজার কর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন। নতুন নিয়োগের মাধ্যমে এই সংখ্যা প্রায় দেড় লাখে উন্নীত হবে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এসব কর্মীকে একীভূত কাঠামোর আওতায় এনে ‘কমিউনিটি হেলথ ওয়ার্কার’ হিসেবে গড়ে তোলার চিন্তা রয়েছে। তাদের দায়িত্ব হবে নিয়মিত মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা।
এম এইচ আ



