টাঙ্গুয়ার হাওরে নিভে গেল ৮ বছরের সৌম্যতার জীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : ০৬ জুন ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
টাঙ্গুয়ার হাওরের নির্মল জলরাশি আর প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করে আনন্দভ্রমণের স্মৃতি নিয়ে ফেরার কথা ছিল আট বছরের সৌম্যতা সরকার নিঝুমের। কিন্তু সেই ভ্রমণই হয়ে উঠল তার জীবনের শেষ যাত্রা। মুহূর্তের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে প্রথম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। তার মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেল তিনটার দিকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরে পর্যটকবাহী ‘ভ্রমণশৈলী’ নামের একটি হাউসবোটে দুর্ঘটনায় সৌম্যতা সরকার নিঝুমের মৃত্যু হয়। সে ধর্মপাশা উপজেলার কামলাবাজ গ্রামের স্বপন চন্দ্র সরকারের মেয়ে এবং সুনামগঞ্জ শহর বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী।
স্বজনেরা জানান, পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনদের নিয়ে নতুন চালু হওয়া একটি হাউসবোটের উদ্বোধনী ভ্রমণে টাঙ্গুয়ার হাওরে গিয়েছিল তারা। হাওরে গোসল শেষে নিলাদ্রী লেকের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় হাউসবোটের পেছনের অংশ থেকে সামনে যাওয়ার পথে পা পিছলে চলন্ত ইঞ্জিনের মধ্যে পড়ে যায় সৌম্যতা। সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিন বন্ধ করা হলেও গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
সৃজন বিদ্যাপীঠের শিক্ষিকা শতাব্দী দাস ফেসবুকে লিখেছেন, “আমাদের স্টুডেন্ট সৌম্যতা আর নেই। মেয়েটা এত মিষ্টি আর শান্ত ছিল যে সবার চোখে পড়ত। ক্লাসে গেলেই হাসিমুখে বন্ধুদের সঙ্গে মিশে থাকত। নাচে তার ছিল অসাধারণ প্রতিভা। আজও বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে, সে আর আমাদের মাঝে নেই।”
তিনি আরও স্মরণ করেন, বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পুতুলের মতো সেজে নাচত সৌম্যতা। তার প্রিয় গান ছিল ‘সোহাগ চাঁদ’। ছোট্ট মেয়েটির প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও মিষ্টি হাসি এখন কেবলই স্মৃতি হয়ে থাকবে।
ফেসবুকে আরেক আবেগঘন স্মৃতিচারণায় শতাব্দী দাস লিখেছেন, “বছরের শেষ ক্লাসে সৌম্যতা বলেছিল, ‘ম্যাডাম, আগামী বছর এই স্কুলে আমি আর থাকব না, অন্য স্কুলে চলে যাব।’ তখন কে জানত, সে শুধু স্কুলই নয়, পৃথিবীর মায়াও ছেড়ে চলে যাবে।”
মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সম্পা তালুকদারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, “রবিবারে সে আর স্কুলে যাবে না। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তার নুপূরের রিনিঝিনি আওয়াজ আর কখনোই শোনা যাবে না। তার সহপাঠীরা তাকে খুঁজবে, অথচ সে এখন কেবলই ছবি, কেবলই স্মৃতি।”
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। পরিবারের কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং বাবার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এম এইচ আ




