নিকলীতে আ. লীগ নেতা হাবিবের উপর হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুর, থানায় মামলা না নেওয়ার অভিযোগ
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ মে ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ওপর অতর্কিত সশস্ত্র হামলা, সপরিবারে প্রাণনাশের চেষ্টা এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার শিকার ওই নেতার নাম মোঃ হাবিব মিয়া । তিনি নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক এবং সাবেক আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ‘মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম কমান্ড’ নিকলী উপজেলা শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে মোঃ হাবিব মিয়া নিকলী উপজেলা বাজার থেকে সাংগঠনিক কাজ শেষে রাস্তা দিয়ে হেঁটে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলামের প্রত্যক্ষ উস্কানি ও নির্দেশনায় তাঁর একদল সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী হাবিব মিয়ার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত ও মারাত্মকভাবে আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়, যেখানে তিনি গুরুতর চিকিৎসাধীন ছিলেন।
এখানেই শেষ নয়, এই হামলার রেশ ধরে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের নিকলী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনের সশস্ত্র নেতাকর্মীরা যৌথভাবে মোঃ হাবিব মিয়ার গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। সশস্ত্র ক্যাডাররা পুরো বাড়ি ঘেরাও করে হাবিব মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে খুঁজতে থাকে। তাকে ঘরে না পেয়ে তারা বসতবাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এ সময় হাবিব মিয়ার বৃদ্ধ বাবা-মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং হুমকি দেওয়া হয় যে, হাবিব মিয়াকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই ডাইরেক্ট মেরে ফেলা হবে।
ঘটনার পর চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে হাবিব মিয়ার পরিবার স্থানীয় নিকলী থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, দেশের বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেওয়া সম্ভব নয়।
থানায় আইনি সুরক্ষা না পেয়ে এবং প্রতিপক্ষের ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকির মুখে আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ হাবিব মিয়া বর্তমানে নিজের জান বাঁচাতে এলাকা ছেড়ে অজ্ঞাত স্থানে আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়েছেন। বর্তমানেও মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে এবং তার পরিবারকে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় নিকলীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রাজনীতি/হা




