“মাই কই গেছোইন?”
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
কানাডার ফেডারেল নির্বাচনে ইতিহাস গড়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। তবে বিজয়ের আনন্দের মাঝেও সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তার একটি আবেগঘন মুহূর্ত—“মাই কই গেছোইন?” সিলেটি টানে মাকে খুঁজে তার এই ডাক মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা ছুঁয়ে গেছে লাখো মানুষের হৃদয়।
বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে জন্ম নেওয়া এবং পরবর্তীতে কানাডায় বেড়ে ওঠা ডলি বেগম স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়ে দেশটির পার্লামেন্টে জায়গা করে নেন। কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার এই নির্বাচনে তিনি কনজারভেটিভ ও এনডিপিসহ অন্যান্য প্রার্থীদের পরাজিত করে জয় নিশ্চিত করেন।
১৯৯৮ সালে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় পাড়ি জমানো ডলি বেগম ছোটবেলা থেকেই কমিউনিটি কাজ ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ধাপে ধাপে রাজনৈতিক অঙ্গনে এগিয়ে গিয়ে তিনি অন্টারিও প্রাদেশিক রাজনীতিতেও সফলতা পান, পরে ফেডারেল পর্যায়ে এই ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেন।
তার গ্রামের বাড়ি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মনুমুখ ইউনিয়নের বাজরাকোনা গ্রাম এবং নানার বাড়ি রাজনগরের হরিনাচং গ্রামে। স্বজনদের মতে, শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন পরিশ্রমী ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ডলি বেগম বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ভোটারদের প্রত্যাশা পূরণে এবং তাদের অধিকার ও কল্যাণে কাজ করে যাবেন।
তার এই অর্জন শুধু কানাডার রাজনীতিতে নয়, বাংলাদেশের প্রবাসী সমাজেও নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, ডলি বেগমের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে এগিয়ে যেতে উৎসাহ দেবে।
আর “মাই কই গেছোইন?”—এই একটি আবেগঘন ডাকই যেন হয়ে উঠেছে এক প্রবাসী নারীর শিকড়, সংগ্রাম আর সাফল্যের প্রতীক
এম এইচ আ





