সিলেটে অস্তিত্ব নেই ৭ টি ফোয়ারার
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ

সিলেট নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নির্মিত সাতটি ফোয়ারার মধ্যে চারটির অস্তিত্ব নেই এবং তিনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এসব ফোয়ারা একসময় নগর সৌন্দর্যের অংশ হলেও এখন তা উল্টো অবহেলার চিত্র তুলে ধরছে।
জানা গেছে, ২০০৩ সালে নগরের বিভিন্ন মোড়ে সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে ফোয়ারাগুলো নির্মাণ করা হয়। এর মধ্যে ছয়টি ছিল চত্বরভিত্তিক এবং একটি নির্মিত হয় বন্দরবাজার এলাকায়। পরবর্তীতে হুমায়ুন রশীদ চত্বর, কুমারপাড়া পয়েন্ট, শাহী ঈদগাহ পয়েন্ট, ঈদগাহ এলাকার পুকুর ও বন্দরবাজার হকার্স পয়েন্টের ফোয়ারাগুলো নির্মাণ করে জেলা পরিষদ। আর নাইওরপুল ও কিনব্রিজ এলাকার ফোয়ারা নির্মাণ করে সিটি করপোরেশন।
তবে কুমারপাড়া, শাহী ঈদগাহ, ঈদগাহ পুকুর ও বন্দরবাজার হকার্স পয়েন্টের ফোয়ারাগুলো এখন আর নেই। এর মধ্যে কয়েকটির জায়গায় নতুন চত্বর নির্মাণ করা হয়েছে, বাকিগুলো কার্যত বিলুপ্ত।
অন্যদিকে হুমায়ুন রশীদ চত্বর, নাইওরপুল ও কিনব্রিজ এলাকার ফোয়ারাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে আছে। কোথাও যন্ত্রাংশ চুরি হয়ে গেছে, কোথাও আবার পানি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা পরিত্যক্তে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হুমায়ুন রশীদ চত্বরের ফোয়ারা এখন ব্যানার-ফেস্টুনে ঢেকে গেছে। নাইওরপুল ও কিনব্রিজ এলাকার ফোয়ারায় জমেছে ময়লা ও পানি, যা মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, পর্যটন নগরী হিসেবে পরিচিত সিলেটে এমন অবহেলা হতাশাজনক। নগরের সৌন্দর্যবর্ধনের এসব স্থাপনা সচল থাকলে শহরের চেহারা আরও আকর্ষণীয় হতো।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, কয়েক দফা মেরামত করা হলেও রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও যন্ত্রাংশ চুরির কারণে ফোয়ারাগুলো কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগ জানিয়েছে, কিছু ফোয়ারা নতুন নকশায় পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে এগুলো সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফোয়ারাগুলো সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের পর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তাদের হলেও অবহেলার কারণে এগুলো অচল হয়ে পড়েছে।




