‘ধান বাঁচাতে ব্যবস্থা নিন’—দেখার হাওরে কৃষকদের মানববন্ধন
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ৩১ মার্চ ২০২৬, ১:১৯ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের দেখার হাওরের বোরো জমির জলাবদ্ধতা দ্রুত নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন হাওরপাড়ের ১৮টি গ্রামের কৃষকরা।
সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার দরিয়াবাজ গ্রামের কাছে দেখার হাওরের উত্তরপাড়ে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম, কৃষক হাজী আব্দুল কাদির, সফর আলী, মুক্তার আলী, নুর আহমদ, আমিরুল ইসলাম, মুহিবুর রহমান, আলী হায়দার, শাহাব উদ্দিন, নুরুল আমিন, মুজাহিদুল ইসলাম, আলাউর রহমান, জুয়েল আহমদসহ আরও অনেকে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দেখার হাওরের উথারিয়া-পাথারিয়া এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ নির্মাণের ফলে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে অন্তত ১৮টি গ্রামের শত শত হেক্টর জমির কাঁচা বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
তারা বলেন, ‘একমাত্র বোরো ফসল রক্ষা করতে না পারলে আমরা চরম সংকটে পড়ব। না খেয়ে থাকতে হবে, গবাদিপশু বিক্রি করে দিতে হবে।’
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে একাধিকবার জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। দ্রুত একটি স্লুইস গেট নির্মাণ করে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, উথারিয়া-পাথারিয়া বাঁধের নিচে তিনটি পাইপ দিয়ে পানি নিষ্কাশন করা হচ্ছে। তবে মহাসিং নদীতে পানির চাপ বেশি থাকায় প্রবাহ কম। এখানে স্লুইস গেট নির্মাণ প্রয়োজন হলেও জমি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেখার হাওর সুনামগঞ্জের অন্যতম বৃহৎ হাওর। এখানে সদর, শান্তিগঞ্জ, ছাতক ও দোয়ারাবাজার উপজেলার প্রায় ৪৫ হাজার ৮৬৯ হেক্টর জমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার ২১৪ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয় এবং প্রতিবছর প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়। তবে চলতি মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষকের ফসল ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এম এইচ আ





