‘গেম’ নামের মৃত্যুফাঁদ: ইউরোপ যাওয়ার পথে সাগরে প্রাণ হারাচ্ছেন তরুণরা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:২৯ অপরাহ্ণ
ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার আগে লিবিয়ার ত্রিপোলির উপকূলীয় এলাকায় একটি ঘরে অপেক্ষা করতে হয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের। সেখানে চলে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রার প্রস্তুতি, কখনো নির্যাতনও। এরপর ছোট নৌকায় তুলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় অনিশ্চিত গন্তব্যে।
এই ভয়ংকর যাত্রাকেই মানব পাচারকারীরা নাম দিয়েছে ‘গেম’। যেখানে ইউরোপে পৌঁছাতে পারা মানেই ‘জয়’, আর না পারলে মৃত্যু—এই ‘গেম’-এর নির্মম পরিণতি।
দারিদ্র্য ও বেকারত্বকে পুঁজি করে দালালচক্র মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তরুণদের ঠেলে দিচ্ছে এই ঝুঁকিপূর্ণ পথে। প্রবাসীবহুল সিলেট অঞ্চলের অনেক তরুণই ঝুঁকি জেনেও ইউরোপ যাওয়ার আশায় এই ‘গেম’-এ অংশ নিচ্ছেন।
সম্প্রতি লিবিয়া থেকে ছোট নৌকায় করে গ্রিসে যাওয়ার পথে ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সুনামগঞ্জের অন্তত ১২ জন রয়েছেন। গত ২১ মার্চ তারা যাত্রা শুরু করেন। ছয় দিন সাগরে দিকভ্রান্ত হয়ে খাবার ও পানির অভাবে একে একে মারা যান অনেকে। পরে বেঁচে থাকা যাত্রীরা লাশগুলো সাগরে ফেলে দিতে বাধ্য হন।
নিহতদের একজন জগন্নাথপুর উপজেলার টিয়ারগাঁও গ্রামের শায়েক আহমদ। তাঁর বাবা আখলুস মিয়া জানান, জমি বিক্রি করে দালালদের টাকা দিয়েছিলেন ছেলেকে ইউরোপ পাঠাতে। চার মাস ধরে বিভিন্ন দেশে ঘোরানোর পর তাকে লিবিয়া নেওয়া হয়।
যাত্রার আগের দিন পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে শায়েক নির্যাতনের কথা জানান এবং মুক্তির জন্য টাকা পাঠানোর অনুরোধ করেন। পরিবারের কাছে থাকা একটি অডিওতে শোনা যায়, তিনি বলছেন—“যত টাকা লাগে দাও, আমাকে বাঁচাও, না হলে আমি বাঁচব না।”
পরদিনই তাকে ‘গেম’-এ তুলে দেওয়া হয়। এরপর আর যোগাযোগ হয়নি। পরে মৃত্যুর খবর আসে।
শায়েকের বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দালাল আমার ছেলেকে সাগরে ফেলে মারছে। আমরা বিচার চাই।”
নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউরোপে যাওয়ার জন্য একজনকে ৭ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়েছে। অনেককে লিবিয়ায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে, পর্যাপ্ত খাবারও দেওয়া হয়নি। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছে দীর্ঘ সময়।
এই ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে অবৈধ অভিবাসনের ভয়াবহ চিত্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের মৃত্যু থামানো কঠিন হবে।
এম এইচ আ





