জেনারেটর আছে, তবু বিদ্যুৎ গেলেই অন্ধকারে শাল্লা হাসপাতাল
শাল্লা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : 16 September 2026, 7:16 PM
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তীব্র লোডশেডিংয়ের মধ্যে জেনারেটর না চলায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। বিদ্যুৎ চলে গেলেই হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড অন্ধকার হয়ে পড়ছে। তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
চলতি বছরের ২৭ জুন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর ব্যক্তিগত অর্থায়নে শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১২ কিলোওয়াট ক্ষমতার একটি নতুন জেনারেটর দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখতে জেনারেটরটি ব্যবহারের কথা থাকলেও সোমবার রাতে সেটি চালু করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রোগী ও স্বজনেরা।
সোমবার রাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, পুরো হাসপাতাল চত্বর অন্ধকারে নিমজ্জিত। জেনারেটর বন্ধ থাকলেও নার্স স্টেশনে আইপিএসের সাহায্যে ফ্যান চলছিল। তবে শিশু ওয়ার্ডের ভেতরে ছিল তীব্র গরম ও ভ্যাপসা পরিবেশ।
শয্যা ও মেঝেতে থাকা রোগীদের অনেককেই গরমে কষ্ট পেতে দেখা যায়। শিশু, বৃদ্ধ ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের স্বজনেরা হাতপাখা ও কাগজ দিয়ে বাতাস করার চেষ্টা করছিলেন। কেউ কেউ গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে ওয়ার্ড ছেড়ে করিডর, বারান্দা কিংবা হাসপাতালের বাইরে অবস্থান নেন।
মন্নানপুর গ্রামের ইন্নছ মিয়া তাঁর অসুস্থ সন্তানকে নিয়ে ছয় দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। তিনি বলেন, সন্তানকে শয্যায় নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই বিদ্যুৎ চলে যায়। এতে মাথার ওপরের ফ্যানও বন্ধ হয়ে যায়।
ইন্নছ মিয়া বলেন, ‘সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে যদি এমন নাজুক অবস্থা হয়, তাহলে আমরা সাধারণ গরিব মানুষ কোথায় যাব?’
সুলতানপুর গ্রামের রাজিয়া বেগম অসুস্থ নাতিকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলেও জেনারেটর চালানো হয় না। এতে গরমে তাঁর নাতির অসুস্থতা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্য রোগী ও স্বজনেরাও একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান।
এ বিষয়ে জানতে কর্তব্যরত চিকিৎসক সোহেল রানার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে জেনারেটর চালানো হয়। সোমবার হয়তো কোনো ‘মিসটেক’ হয়েছে।
শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দেবব্রত আইচ মজুমদার বলেন, জরুরি সময়ে জেনারেটর চালানো হয়। সোমবার কেন জেনারেটর চালানো হয়নি, বিষয়টি তিনি দেখবেন।
জেনারেটরের জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার থেকে এ জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। তবে মাস শেষে অফিস থেকে তেলের খরচ বহন করা হয়।
এম এইচ আ




