গণপতি পরিবারে চার খুন: পুলিশ বলল ইয়াবা খেয়ে হত্যা, ডোপ টেস্টে নেই মাদকের অস্তিত্ব
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : 31 August 2026, 9:22 PM
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যা মামলায় দুই আসামির ডোপ টেস্টে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
রংপুর মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ও গোয়েন্দা শাখার উপ-কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী সোমবার দুপুরে বলেন, গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের ডোপ টেস্টের জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা কারাগার থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
২২ আগস্ট রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর ওই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
তখন পুলিশ জানিয়েছিলো, ইয়াবা সেবন দেখে ফেলায় এবং সামাজিক সম্মানের ভয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে গলায় গামছা প্যাঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এরপর পরিবারের অন্য তিনজনকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এদিন সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস ৮-৯ ইয়াবা সেবন করেছিল বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটির তদন্ত করছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।
পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে আদালত ও কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে যায়। তাদের সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজের একজন টেকনোলজিস্ট ও একজন সহকারী ছিলেন।
তারা আসামি মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের ডোপ টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করেন।
তখন পুলিশ কর্মকর্তা সনাতন চক্রবর্তী বলেছিলেন, চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ‘অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর’। আসামিদের কারাগার থেকে বাইরে আনা হলে তাদের ওপর হামলা বা মব সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়ে টেকনোলজিস্টদের কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানেই আসামিদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
এম এইচ আ



