ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাবার মৃত্যু, একসঙ্গে জানাজা-দাফন
জকিগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : 31 August 2026, 9:09 PM
সিলেটের জকিগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে মারা গেছেন তাঁর বাবা। মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও ছেলের মৃত্যুতে পরিবারটিতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরদিন একই ঈদগাহে তাঁদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয় বাবা-ছেলেকে।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের খিলগ্রাম (খালপাড়) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মাসুক আহমেদ (৩৮) ও তাঁর বাবা আব্দুল লতিফ (৬৭)।
স্বজনেরা জানান, মাসুক আহমেদ শাহগলী বাসস্ট্যান্ড এলাকার নুসরাত লাইটিংয়ে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। রোববার সন্ধ্যায় কর্মস্থলে কাজ করার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে তাঁর মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছায়।
ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাবা আব্দুল লতিফ। স্বজনেরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু ছেলের মৃত্যুর প্রায় দুই ঘণ্টা পর তাঁরও মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
মাসুকের বিয়ে হয়েছিল অল্প কিছুদিন আগে। নতুন সংসার নিয়ে তাঁর অনেক স্বপ্ন ও পরিকল্পনা ছিল বলে জানান স্বজনেরা। সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়।
সোমবার জোহরের নামাজের পর খিলগ্রাম ঈদগাহে বাবা ও ছেলের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। জানাজার আগে পাশাপাশি দুটি কবর খোঁড়া হয়। জানাজা শেষে একে একে বাবা ও ছেলের মরদেহ সেই কবরে দাফন করা হয়।
বাবা-ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে খিলগ্রাম ও আশপাশের এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁদের বাড়িতে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন।
খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন এবং তাঁদের সান্ত্বনা দেন।
জকিগঞ্জ থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। ছেলের মৃত্যুর সংবাদে বাবাও মারা গেছেন।’ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত মাসুক আহমেদের লাশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফন করা হয়েছে।
এম এইচ আ



