সিলেটে বাস দুর্ঘটনা: দুই বাসের রেজিস্ট্রেশন বাতিল, চালক-মালিককে তলব
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : 08 August 2026, 10:19 PM
সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। একই সঙ্গে বাস দুটির মালিক ও চালকদের পাঁচ দিনের মধ্যে বিআরটিএ কার্যালয়ে সশরীরে হাজির হয়ে দুর্ঘটনার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিআরটিএর সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ।
তিনি বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত ইউনিক ও বেঙ্গল পরিবহনের বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি বাস দুটির চালক ও মালিকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগরের কাশিকাপন এলাকায় সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়ক থেকে ছিটকে ধানখেতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ওই বাসের সাত যাত্রী নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হন।
বিআরটিএ সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনায় পড়া ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-২৫৬৩ এবং সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটির নিবন্ধন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫৯৮৭। দুর্ঘটনার পর বাস দুটির রেজিস্ট্রেশন বাতিলের জন্য ঢাকার সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে আবেদন করা হয়। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিলেট জেলা প্রশাসন। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
শনিবার সকালে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দেখতে যান জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। এ সময় তিনি মহাসড়কে বেপরোয়া চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
দুর্ঘটনায় হতাহতদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। বিআরটিএর পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে, পঙ্গুত্ব বরণকারীদের পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে এবং আহত ব্যক্তিদের এক লাখ টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
বিআরটিএর সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী আব্দুর রশীদ বলেন, নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের আবেদনের পর দ্রুত তাঁদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পঙ্গুত্ব বরণকারী ও আহত ব্যক্তিদের আবেদন ফরম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। আবেদন যাচাই-বাছাই করে তাঁদেরও সহায়তা দেওয়া হবে।
দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সংঘর্ষের সময় মহাসড়কের ওই অংশে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম ছিল। প্রাথমিকভাবে অতিরিক্ত গতি কিংবা চালকের ঘুমিয়ে পড়ার বিষয়টি সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো কারণকেই চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি, বাস দুটির চলাচল, চালকদের ভূমিকা এবং সড়কের সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে। এরপর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং কারও দায় থাকলে তা তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হবে।
এম এইচ আ



