অনেকের পেটে হাত পড়েছিল, তাই বিরোধিতা: বিদায়ী ডিসি সারওয়ার
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ জুন ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
‘একটি ভালো কাজ শুরু করেছিলাম, শেষ করা গেলো না। অনেকের পেটে হাত পড়ায় তারা এর বিরুদ্ধাচরণ করেছে।’ বিদায়বেলায় এভাবেই মনের কথা বললেন সিলেটের সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম।
গতকাল রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক আদেশে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনে প্রত্যাহারের পেছনে কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। এতেই নানা মহলে প্রশ্ন ও জল্পনার সূচনা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে নেওয়া কিছু উদ্যোগকে কেন্দ্র করে আলোচনায় আসেন তিনি। বিশেষ করে মাজারে থাকা দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং ঐতিহাসিক তিনটি ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। মাজার কর্তৃপক্ষ ও একাংশের মানুষ এই পদক্ষেপের বিরোধিতায় সরব হয়ে ওঠেন। গত ১৮ জুন এসব পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার জন্ম দেয়।
প্রত্যাহারের পর সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেন সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, ‘বদলি কারণে-অকারণে হতে পারে। সরকার যখন যেখানে যাকে দিয়ে কাজ করাতে চায় সেখানেই যেতে হবে। একটি ভালো কাজ শুরু করেছিলাম, শেষ করা গেলো না। অনেকের পেটে হাত পড়ায় তারা এর বিরুদ্ধাচরণ করেছে।’
গত বছরের ১৮ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পান মো. সারওয়ার আলম। এর আগে তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একান্ত সচিবের দায়িত্বে ছিলেন। সিলেটের সাদা পাথর লুট ও চুরির ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে তখন জেলা প্রশাসক হিসেবে তাঁকে পদায়ন করা হয়েছিল। প্রায় ১০ মাস দায়িত্ব পালনের পর রোববার তাঁকে সিলেটের পদ থেকে প্রত্যাহার করা হলো।
এম এইচ আ




