আমরা এখন সব মানুষের সরকার: মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ জুন ২০২৬, ৭:১৬ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণ সতর্ক থাকলে দেশের অগ্রযাত্রা থামানো যাবে না। তাই দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ জনগণের হাতেই সঁপে দিতে চান তিনি।
বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, গত এক যুগ মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ সেই অধিকার ফিরে পেয়েছে। তিনি বলেন, “৫ আগস্ট দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। এখন মানুষ শান্তি চায়, কাজ চায়, ভালোভাবে বাঁচতে চায়।”
দেশের উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত অলস থাকলে দেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি জনগণকেও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাক্স্বাধীনতা ফিরে এসেছে দাবি করে তারেক রহমান বলেন, এখন যে কেউ সরকারের সমালোচনা করতে পারে, সংবাদমাধ্যমও সরকারের বিরুদ্ধে লিখতে পারে। এর মাধ্যমে গণতন্ত্র, বাক্স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। আগামী এক বছরে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত আট হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। একই সময়ে ৪০ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হবে। উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালু এবং সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের আগে তাঁরা একটি রাজনৈতিক দল ছিলেন, কিন্তু সরকার গঠনের পর তাঁরা সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছেন এবং যারা ভোট দেননি—সব নাগরিকের জন্যই সরকার কাজ করবে।
বিরোধী দলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতি ও স্থিতিশীলতা যখনই এগিয়ে যেতে শুরু করে, তখনই একটি মহল অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করে। সরকারকে সময় না দেওয়ার দাবির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য জনগণের স্বার্থে নয়, বরং ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে দেওয়া হচ্ছে।
অর্থ পাচারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতে জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অর্থ পাচার রোধ করা হবে। দেশের অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণেই ব্যয় করা হবে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান প্রমুখ। ভিডিও কনফারেন্সে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
এম এইচ আ




