ঈদের পর স্বস্তি সিলেটের সবজির বাজারে,অপরিবর্তিত মাছ-মাংসের দাম
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ জুন ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
পবিত্র ঈদুল আজহার পর সিলেটের খুচরা বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম কিছুটা কমেছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় ক্রেতারা স্বস্তি পেলেও মাছ ও মাংসের বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে চাহিদা ও পরিবহন সংকটের কারণে অনেক পণ্যের দাম বাড়লেও এখন বাজারে সরবরাহ বাড়ায় সবজির দাম কমতে শুরু করেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কালীঘাট, বন্দরবাজার ও সুবহানীঘাট পাইকারি ও খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।
বাজারে প্রতি কেজি কাঁকরোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ঢেঁড়শ ৬০ টাকা, উচ্ছে ৬০ টাকা, কচুর চড়া ৭০ টাকা, লতি ৬০ টাকা, ঝিঙে ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, গোল বেগুন ৬০ টাকা এবং পেঁপে ৬০ টাকায়। এ ছাড়া লেবু প্রতি হালি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।
ঈদের আগের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে।
সবজি বিক্রেতারা জানান, ঈদের আগে ট্রাক ভাড়া ও বাড়তি চাহিদার কারণে অনেক পণ্যের দাম বেড়েছিল। এখন সিলেটের স্থানীয় বিভিন্ন উপজেলা এবং দেশের অন্যান্য জেলা থেকে নিয়মিত সবজির গাড়ি আসতে শুরু করায় দাম কিছুটা কমেছে।
সুবহানীঘাট কাঁচাবাজারের বিক্রেতা সুহেল আহমদ বলেন:”ঈদের আগে সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা বেশি ছিল। এখন বাজারে মালের (সবজি) সরবরাহ ভালো, তাই দাম কমতির দিকে। আগামী সপ্তাহেও যদি সরবরাহ এমন থাকে, তবে দাম আরও কমতে পারে।”
তবে মাছের বাজারে তেমন স্বস্তি নেই। বাজারে চাষের রুই মাছ প্রতি কেজি ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২২০ টাকা, চাষের শিং মাছ ৩৮০ টাকা, পাবদা ৪০০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০-১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় হাওরের মাছের সরবরাহ কম থাকায় চাষের মাছের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিক্রেতাদের দাবি, উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বেশি থাকায় মাছের দাম কমার সুযোগ কম।
ডিমের বাজারেও দাম প্রায় স্থিতিশীল রয়েছে। লাল ডিম (ফার্মের) প্রতি ডজন ১২০ টাকা এবং দেশি মুরগির ডিম ৩০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এদিকে গরুর মাংসের দাম আগের মতোই ৮০০-৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংসের দাম ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে বিক্রেতারা বলছেন, কোরবানির ঠিক পরপর হওয়ায় বাজারে মাংসের ক্রেতা ও বেচাকেনা বেশ কম।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দামের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে মাছ, ডিম ও মাংসের বাজারে স্বস্তি ফিরতে হলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনায় নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
ঈদের পর সিলেটের বাজারে সবজির দামে যে স্বস্তি ফিরেছে, তা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্য এখনও তাদের উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে।




