৫০ শয্যার হাসপাতালে ৩১ শয্যার জনবল দিয়ে সেবা
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২:৪৯ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মীর সংখ্যা কম থাকায় দায়িত্বরত চিকিৎসকদের রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতালের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাতেও রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। বর্তমানে পুরো হাসপাতাল পরিচালিত হচ্ছে মাত্র একটি অ্যাম্বুলেন্স, একজন চালক ও একজন নৈশপ্রহরী দিয়ে। অথচ এখানে অন্তত দুটি অ্যাম্বুলেন্স ও দুজন চালক থাকার কথা।
জানা যায়, ২০১২ সালের ১ ডিসেম্বর হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল বাড়ানো হয়নি। ফলে ৫০ শয্যার এই হাসপাতাল এখনো ৩১ শয্যার জনবল দিয়েই পরিচালিত হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে এখানে ছয়টি কনসালটেন্ট পদসহ মেডিকেল অফিসার, আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও), সহকারী সার্জন, নার্স ও ফার্মাসিস্টসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন টেকনিক্যাল ও সহায়ক পদেও রয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি।
দীর্ঘদিন ধরে এসব পদ শূন্য থাকায় হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জামও কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি। প্রায় ১৮ বছর ধরে এক্স-রে, আলট্রাসনোগ্রাম ও ইসিজি মেশিন অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
চিকিৎসক সংকটের কারণে উপজেলার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের দিয়ে জরুরি বিভাগের দায়িত্ব পালন করানো হচ্ছে, ফলে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিরও ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। বিপি মেশিন, স্টেথোস্কোপ, নেবুলাইজার, পালস অক্সিমিটারসহ বিভিন্ন জরুরি সরঞ্জাম প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
হাসপাতালের অবকাঠামোও রোগীবান্ধব নয়। প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ওয়ার্ড বয় ও নিরাপত্তাকর্মীর ঘাটতিও রয়েছে। ফলে সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, জনবল সংকটের মধ্যেও রোগীদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর অভাব বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ করা গেলে সেবার মান উন্নত হবে।
এদিকে মৌলভীবাজারের সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান জানান, জনবল ও যন্ত্রপাতির ঘাটতির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ধাপে ধাপে সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ না করা হলে উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা আরও ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এম এইচ আ




