মশার দাপটে দিশেহারা সিলেটবাসী
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ মার্চ ২০২৬, ৩:৩১ অপরাহ্ণ
সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় হঠাৎ করেই বেড়েছে মশার উপদ্রব। শীত মৌসুম শেষ না হতেই নগরের বিভিন্ন এলাকায় মশার উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন নগরবাসী। তাদের অভিযোগ, মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরেই কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। সেই সাথে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন তারা।
তবে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য শাখা বলছে, নানা চ্যালেঞ্জের কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে সিসিকের নতুন প্রশাসক জানিয়েছেন, মশক নিধনকে অগ্রাধিকার দিয়েই কাজ শুরু করেছেন তারা।
নগরবাসীর অভিযোগ, বর্তমানে দিনে-দুপুরেও মশার উৎপাত থেকে রেহাই মিলছে না। বাসা কিংবা অফিস দিন-রাত সমান তালে সহ্য করতে হচ্ছে মশার কামড়। মশার কয়েল বা অন্যান্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা ব্যবহার করেও মিলছে না স্বস্তি। এমন পরিস্থিতিতে মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশনের জোরালো উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সিলেট সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, স্বল্প জনবল দিয়ে নগরের ৪২টি ওয়ার্ডে একযোগে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া অনেক বন্ধ বাসা-বাড়িতে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি হলেও সেগুলো ধ্বংস করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনবল সংকট কাটাতে স্থায়ী বা অস্থায়ী ভিত্তিতে লোকবল নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, জনবল স্বল্পতার কারণে সব এলাকায় একযোগে কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস ও সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সিসিকের নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, মশক নিধন কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে সিটি করপোরেশন। ইতোমধ্যে র্যালিসহ মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংসে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যন্ত সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এ কার্যক্রমে নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রত্যাশা করেন তিনি।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, মশা নিয়ন্ত্রণে শুধু লোকালয় নয়, সিলেটের ছড়া ও খালগুলোও পরিষ্কার করার জন্য সিটি করপোরেশন একটি কার্যকর মাস্টারপ্ল্যান গ্রহণ করবে।




