অবৈধ বসতির সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রাণ হারালেন র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হয়েছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখান থেকে মাসোয়ারা কোটি টাকা আদায় করে স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। এই অবৈধ বাণিজ্য ও দখলদারিত্ব টিকিয়ে রাখতে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী। এই অবৈধ বসতির সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারও অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে গিয়ে প্রাণ হারালেন র্যাব কর্মকতা ডিএডি মো. মোতালেব।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সন্ত্রাসী হামলার এ ঘটনায় র্যাবের আরও তিন সদস্য মারাত্মক আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হলেন- আহতরা হলেন ল্যান্সনায়েক এমাম, কনস্টেবল রিফাত ও নায়েক আরিফ।
নিহত মোতালেব বিজিবিতে কর্মরত ছিলেন। গত বছর তাকে ডিএডি পদমর্যাদায় র্যাবে পাঠানো হয়। তিনি পতেঙ্গা এলাকায় র্যাব-৭-এ দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সলিমপুরের অভিযানে অংশ নেওয়া র্যাব-৭-এর একজন কর্মকর্তা জানান, অবৈধ বসতি উচ্ছেদ ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তারের অভিযানে গিয়ে একজনকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে আটক করেন র্যাব সদস্যরা। পরে আসামিকে নিয়ে আসার পথে র্যাবের ওপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়ে ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের ডিএডি মো. মোতালেব, ল্যান্স নায়েক ইমাম উদ্দিন, নায়েক আরিফ ও কনস্টেবল রিফাত আহত হন।
গুরুতর আহত মোতালেবকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজনকে জিম্মি করে রাখে সন্ত্রাসীরা। পরে র্যাব ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে জিম্মিদের উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর আহত হয় প্রথমে সিএমএইচ পরে চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, জঙ্গল সলিমপুরে গত চার দশক ধরে অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়খেকো, ভূমিদস্যু ও সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরাপদ আশ্রয় নিয়ে থাকে। এলাকাটি পাহারার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত এবং বহিরাগতদের প্রবেশ কঠিন।
গত কয়েক বছরে প্রশাসনের বিভিন্ন অভিযান সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়ে। ২০২৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযানের সময় জেলা প্রশাসক, ওসি ও পুলিশসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে র্যাব ও পুলিশের ওপর একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।




