নিরাশ হবেন না, ভবিষ্যতে দেখব: নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : 13 June 2023, 12:45 AMঢাকা-১৭ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী সবাইকে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, অনেকেই যোগ্য আছেন, একজনকে তো দিতে হবে। সব হিসাবনিকাশ মিলিয়ে আমরা একজনকে মনোনয়ন দিয়েছি। যাদের মনোনয়ন দিতে পারিনি তাদের হয়ত কষ্ট লাগবে, কারণ তারাও যোগ্য। আমরা অবশ্যই সামনের দিনে তাদের দেখব। নিরাশ হওয়ার কিছু নেই। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে সবাই ভালো থাকবেন। ক্ষমতায় না এলে সবার কষ্ট হবে।
সোমবার (১২ জুন) গণভবনে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের এক সভায় তিনি এ কথা বলেন।
পরে প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান জাহিদ তুষার গণমাধ্যমকে এ কথা জানান।
এদিকে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক নেতা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, সহযোগী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা-১৭ আসনের থানা, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সোমবার গণভবনে ডাকা হয়। নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা যাতে বাড়ে সেজন্য সবাইকে ভোটারদের কাছে যেতে নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা। অল্পদিনের ভোট হলেও নির্বাচনের আমেজ যেন থাকে এমন নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।
বৈঠকে আগামীতে আওয়ামী লীগকে আবারও ক্ষমতায় আনতে দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচন চ্যালেঞ্জিং হবে, আওয়ামী লীগকে তৃণমূল থেকে সুসংগঠিত করতে হবে। আওয়ামী লীগ বাদে অন্য কেউ ক্ষমতা এলে উন্নয়ন এবং দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশবিরোধী, খুনি, মৌলবাদী চক্র, মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি যেন ক্ষমতায় না আসতে পারে এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। দুঃসময়ের নেতাকর্মীরা যেন অবহেলিত না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি দিতে দলের নেতাদের নির্দেশ দেন শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, দুঃসময়ের নেতাকর্মীরাই দলের দুঃসময়ে এবং যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকবে। আমার একমাত্র শক্তি আমার সংগঠন। সাংগঠনিক শক্তি না থাকলে বড় কোনো অর্জন সম্ভব হয় না। তাই দলকে সুসংগঠিত করতে হবে তৃণমূল পর্যায়ে থেকে।
বাংলাদেশকে নিয়ে নানা চক্রান্ত শুরু হয়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকেই চায় না আমাদের দেশটি এগিয়ে যাক। এ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক চক্রান্তের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাদের উস্কানিতে বিএনপি আজ লাফাচ্ছে, তারা কিন্তু তাদের ক্ষমতায় বসাবে না। তারা শুধু তাদের ব্যবহার করবে।
টানা তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে দেশের উন্নয়ন হয়, জনগণের জীবনমান উন্নত হয়, সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই দেশে এগিয়ে যাচ্ছে, বিদেশে বাংলাদেশের সম্মান মর্যাদা বেড়েছে অনেক।
তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যে পরিবর্তনটা দৃশ্যমান হয়েছে আওয়ামী লীগ ধারাবাহিকভাবে ক্ষমতা আছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। আমরা মানুষের মন জয় করেই ক্ষমতায় এসেছি। আর ক্ষমতায় এসে ধারাবাহিক উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ওপর ’৭৫ সাল থেকে ২০০৮ পর্যন্ত যে অন্যায় অত্যাচার করা হয়েছে, আমরা তার প্রতিশোধ নেই নাই। আমরা অন্যায়ের জবাব দিচ্ছি উন্নয়ন করে। আওয়ামী লীগ সরকার যে উন্নয়ন করেছে সেগুলো বেশি করে প্রচার করতে দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি।
ঢাকা-১৭ আসনের উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে সবার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আরাফাতকে আপনাদের হাতে তুলে দিলাম নৌকার বিজয় নিশ্চিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে সবাই মিলে কাজ করবেন।
বিএনপির নির্বাচন মানে দশটা হোন্ডা ২০ টা গুন্ডা নির্বাচন ঠান্ডা মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ কখনো ভোটারবিহীন নির্বাচন করেনি। ভোটার বিহীন নির্বাচন করেছে খালেদা জিয়া ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি।
বৈঠকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ডা. দীপু মনি, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি, যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা-১৭ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ মনোনয়ন প্রত্যাশী ২২ জনের মধ্যে ১৮ জন উপস্থিত ছিলেন।
রাজনীতি/হান্নান





