আনোয়ারার চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের সহায়ক অবকাঠামো প্রকল্প একনেকে অনুমোদন
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের শিল্পায়ন, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় প্রতিষ্ঠিতব্য চাইনিজ ইকোনমিক অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনের (সিইআইজেড) জন্য প্রয়োজনীয় সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
সোমবার (১৬ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এটি অনুমোদন পায়।
দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও পর্যালোচনার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের আওতায় শিল্পায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে। প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ২৩৫ মিটার দীর্ঘ জেটি লিংক সড়ক, ১ হাজার ১৮১ মিটার দীর্ঘ প্রধান সড়ক, ২০ হাজার ৩০৪ ঘনমিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন পানি সংরক্ষণাগার, ৪ দশমিক ২৪ এমএমসিএফডি ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন ও ডিস্ট্রিক্ট রেগুলেটিং স্টেশন (ডিআরএস), ২৫ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্ট্রাল ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি), ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন বহুমুখী জেটি, ৬০ টন দৈনিক সক্ষমতার সলিড ওয়েস্ট কালেকশন স্টেশন, প্রায় ১২ কিলোমিটার বাউন্ডারি ওয়াল ও দুইটি ৩৩/১১ কেভি সাবস্টেশন নির্মাণ।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০৩১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী প্রকল্পের মোট ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ সহায়তা এবং প্রায় ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ব্যয় করা হবে। বৈদেশিক অর্থায়নের অংশ চীনের এক্সিম ব্যাংকের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট (পিবিসি) সুবিধার আওতায় প্রাপ্তির প্রস্তাব রয়েছে।
আনোয়ারার কর্ণফুলী নদীর পূর্ব তীরে প্রায় ৭৮৩ একর জমির ওপর জিটুজি ব্যবস্থাপনায় গড়ে উঠছে সিইআইজেড। প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়েছে। ডেভেলপার চুক্তি সই হলে মূল অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে। ২০১৬ সালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ধারাবাহিকতায় এ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিইআইজেডে বৃহৎ পরিসরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি আধুনিক শিল্প ও লজিস্টিক কেন্দ্র গড়ে উঠবে। এর ফলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং কমপক্ষে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আহরণের সুযোগ তৈরি হবে। কর্ণফুলী টানেল, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর ও শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছাকাছি হওয়ায় ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চলটির অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একইসাথে সিইআইজেড বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সহযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এই প্রকল্পটি নির্বাচনি ইশতেহার ২০২৬’-এর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সহায়ক হবে। বিশেষত তৃতীয় অধ্যায়- ভঙ্গুর অর্থনীতির পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের অধীন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সর্বাধিক প্রাধান্য, বিনিয়োগ ও বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিল্পপার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণের সাথে সরাসরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হবে এবং কমপক্ষে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আহরণ সম্ভব হবে। এছাড়াও প্রকল্পটি নির্বাচনি ইশতেহারের চতুর্থ অধ্যায় – অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের অধীন ‘চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে প্রতিষ্ঠা’-এর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেখানে বলা হয়েছে, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলকে কর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এর ফলে বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও সুদৃঢ় হবে।’
- নীরব চাকলাদার



