সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: হত্যার সময় বন্ধ ছিল সিসিটিভি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : 12 August 2026, 7:18 PM
সিলেট নগরের রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৯০), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনা (২৫) হত্যার সময় তাঁদের বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় ক্যামেরাটি সচল ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই সুযোগেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার নিজ বাসা থেকে তিনজনের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ও সিলেট চেম্বারের পরিচালক ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীকে নিয়ে ওই বাসায় বসবাস করছিলেন। তাঁদের দেখাশোনার জন্য গৃহপরিচারিকা তাহমিনা সেখানে থাকতেন। তাঁদের চার সন্তান যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।
ঘটনার সময় বাসার সিসিটিভি বন্ধ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বাসার সিসিটিভি ক্যামেরা সচল ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই কেউ বাসায় প্রবেশ করে থাকতে পারে। তবে পুরো এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ না করা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
পুলিশ জানায়, এখন পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো ছুরি বা অস্ত্র উদ্ধার করা হয়নি। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ এবং মুঠোফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
ঘটনাটি তদন্তে পুলিশ, পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট কাজ করছে। ঘটনাস্থলে ক্রাইম সিন পরীক্ষা, বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সুরতহালসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বুধবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের আঘাত করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।
পুলিশ কমিশনার জানান, বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালংকার বা মূল্যবান কোনো জিনিসপত্র খোয়া গেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবনের চারতলার ভাড়াটিয়ারা সকালে চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনেছেন বলেও পুলিশকে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনে ডাকাতি, পারিবারিক শত্রুতা কিংবা পূর্ববিরোধ—সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি দলিলও উদ্ধার হয়েছে। সেটিকেও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। সিআইডি, পিবিআই ও পুলিশের বিশেষায়িত টিম একযোগে কাজ করছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্যের সহায়তায় দ্রুত জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ কমিশনার এ ঘটনায় কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানান।
নিহত দম্পতির ভাগনে মুন্না মিয়া বলেন, রায়নগরের বাসায় তাঁর মামা-মামি একাই থাকতেন। তাঁদের সঙ্গে একজন গৃহপরিচারিকা থাকতেন। বুধবার সকাল নয়টার দিকেও তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। তাঁর ধারণা, সকাল নয়টার পর কোনো একসময় তাঁদের হত্যা করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির বলেন, নিহত দম্পতির চার সন্তানের মধ্যে দুইজন লন্ডনে এবং দুইজন যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিএনপি ও জামায়াতের নেতারা।
এম এইচ আ



