সিলেট বিভাগে ১৯ মে’র পরিবহন ধর্মঘট স্থগিত
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশিত হয়েছে : ১৭ মে ২০২৬, ৯:৪৯ অপরাহ্ণ
পরিবহন শ্রমিকনেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সিলেট বিভাগে আগামী ১৯ মে থেকে ডাকা অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট আগামী ৬ জুন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। আজ রোববার (১৭ মে) সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনারের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজ সন্ধ্যায় দক্ষিণ সুরমার বাবনা পয়েন্টে ফেডারেশনের সিলেট বিভাগীয় কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সজিব আলীর পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি গোলাম হাদি সাইফুল, জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি নাজিম লস্করসহ বিভিন্ন পরিবহন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে শ্রমিক নেতারা জানান, আজ দুপুরে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরীর সঙ্গে ফেডারেশনের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এসএমপি কমিশনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে নির্দোষ নেতাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রাথমিক তদন্তে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়া গেলে কোনো নেতাকে গ্রেফতার বা হয়রানি করা হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। পুলিশ প্রশাসনের এই আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৯ মে ভোর থেকে সিলেট বিভাগে আহূত অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট আগামী ৬ জুন পর্যন্ত স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয় ফেডারেশন।
প্রসঙ্গত, গত ২৭ এপ্রিল সিলেটের কদমতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে পরিবহন শ্রমিকদের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে গুরুতর আহত দুই শ্রমিক পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই দুই শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে কদমতলী টার্মিনালের দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করে।
এর মধ্যে একটি মামলায় সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস, কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজন ও কোষাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৬০ জনকে আসামি করা হয়। অপরদিকে দ্বিতীয় মামলায় একই ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিমসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়।
এসএমপির দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান জানান, দুটি মামলাই বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।




