হামে কাতরাচ্ছে শিশুরা , সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নার্সদের উদ্দাম নাচ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ মে ২০২৬, ৭:১৮ অপরাহ্ণ

সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালে এক চরম অমানবিক ও সংবেদনহীন ঘটনার সাক্ষী হলেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় যখন হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত ৮৫টি শিশু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, ঠিক তখনই নিচতলায় হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে ব্যান্ড পার্টির উচ্চ শব্দে গানের তালে নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করলেন নার্সরা। মঙ্গলবার (১২ মে) বিশ্ব নার্স দিবসের অনুষ্ঠানে এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়েছেন সচেতন মহল।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে সদর হাসপাতালের নার্সরা একটি শোভাযাত্রা বের করেন। শোভাযাত্রার আগে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে ব্যান্ড পার্টির বাদ্যযন্ত্রের তালে ধামাইল গানের সঙ্গে নাচতে শুরু করেন তারা। নার্সদের এই নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, যখন মুমূর্ষু শিশুদের পাশে থেকে সেবা দেওয়ার কথা, তখন নার্সদের এমন উল্লাস হাসপাতালের পরিবেশকে চরমভাবে বিঘ্নিত করেছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, নার্সদের এই ‘নাচ-গানের’ সময় সেখানে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. রফিকুল ইসলাম এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবুল কালামসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে হাসপাতালের ষষ্ঠ তলার হাম ওয়ার্ডে ৮৫ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। এসব রোগীর স্বজনরা হাসপাতালের সেবার মান ও নার্সদের অপেশাদার আচরণ নিয়ে আগে থেকেই ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোগীর স্বজন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার সন্তান হামে আক্রান্ত হয়ে ছটফট করছে। হাসপাতাল থেকে কোনো ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না, সব বাইরে থেকে কিনে আনছি। ইনজেকশন দেওয়ার জন্য ডাকলে নার্সরা রোগীর কাছে না এসে উল্টো রোগীকে তাদের কাছে নিয়ে যেতে বলেন। আমরা সন্তানদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় মরছি, আর তারা নিচে গান-বাজনা করে নাচছে!’
আরেকজন অভিভাবক আব্বাস মিয়া বলেন, ‘দিবস পালন করার অধিকার তাদের আছে, কিন্তু হাসপাতালের ফটকে উচ্চ শব্দে ব্যান্ড পার্টি বাজিয়ে নাচানাচি করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এতে রোগীদের ঘুমের ও চিকিৎসার ব্যাঘাত ঘটছে।’
সুনামগঞ্জ সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সদস্য খলিল রহমান এই ঘটনাকে ‘অমানবিক’ অভিহিত করে বলেন, হাসপাতালের ভেতরে এমন আনন্দ-উল্লাস কাম্য নয়। এটি পেশাগত আচরণের পরিপন্থী।
এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মাহবুবুর রহমানকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। তবে সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. জসিম উদ্দিন বলেন, ‘নার্স দিবসে আনন্দ উপভোগ করা দোষের কিছু নয়। তবে সময়, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে এসব করা উচিত ছিল। সবার সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন।’




