মাধবপুরে বেতন-রেশন বন্ধ, ধর্মঘটে চা শ্রমিকরা
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা-র সুরমা চা বাগান-এ টানা চার সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের বেতন বন্ধ থাকায় চরম খাদ্য সংকটে পড়েছে সহস্রাধিক শ্রমিক পরিবার। বাগানের কার্যক্রমও বন্ধ থাকায় অনাহার, অপুষ্টি ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
বাগান সূত্রে জানা গেছে, এখানে প্রায় ২ হাজার ২০০ শ্রমিক কর্মরত। তাদের ওপর নির্ভরশীল শিশু ও বৃদ্ধসহ মোট ৬ থেকে ৮ হাজার মানুষের জীবিকা এখন ঝুঁকির মুখে পড়েছে। অনেক শ্রমিক বাধ্য হয়ে এনজিও থেকে ঋণ নিচ্ছেন, আবার কেউ মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার করছেন।
স্থানীয় শ্রমিক ও পঞ্চায়েত সূত্র জানায়, গত চার সপ্তাহ ধরে কোনো মজুরি পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি রেশন সরবরাহও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। ফলে অনেক পরিবার দিনে একবেলা খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অনেক শিশু না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ছে।
এক শ্রমিক মা বলেন, “চার সপ্তাহ ধরে কোনো টাকা পাইনি। বাচ্চারা না খেয়ে কাঁদে। আমরা কীভাবে বাঁচব? বাগান চালু করে বকেয়া বেতন দিলেই আমরা স্বাভাবিক হতে পারি।”
পঞ্চায়েত নেতা দ্বীপ কর্মকার জানান, বেতন বন্ধের প্রতিবাদে শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন। ইতোমধ্যে বাগানের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বাগান ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, বাগান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বেতন দিতে না পারার কথা জানিয়েছে। তবে শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও অবহেলার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় মানবাধিকারকর্মীরা পরিস্থিতিকে ‘নীরব মানবিক বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ, নিয়মিত রেশন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং বাগান পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে মাধবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ বিন কাশেম বলেন, “ঘটনাটি দুঃখজনক। মালিক ও শ্রমিক—উভয় পক্ষের সমঝোতার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। বাগানের উৎপাদন বন্ধ থাকা শুধু মালিকের নয়, দেশের অর্থনীতির ওপরও প্রভাব ফেলে।”
সংশ্লিষ্ট চা বোর্ড কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
শ্রমিকরা অবিলম্বে বকেয়া বেতন পরিশোধ ও বাগান চালুর দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ সংকট শুধু একটি বাগান নয়, দেশের সামগ্রিক চা শিল্পের জন্যও উদ্বেগজনক সংকেত।
এম এইচ আ




