সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টিতে ১,১৮৯ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৬ অপরাহ্ণ
মার্চের শেষ সপ্তাহে উজান ও ভাটিতে ভারী বর্ষণের কারণে সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়ে বোরো ফসল তলিয়ে যাচ্ছে। এতে পানি নিষ্কাশনকে কেন্দ্র করে উজান ও ভাটির কৃষকরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে এসেছেন।
সরকারি হিসাবে ইতোমধ্যে জেলার ১ হাজার ১৮৯ হেক্টর বোরো জমি জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলার ৫৩টি হাওরে ৭১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। মাটির কাজ শেষ হলেও বর্তমানে দুর্বাঘাস লাগানোর কাজ চলছে।
তবে চলতি বছর মার্চ মাসে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। যেখানে গত বছর মার্চে মাত্র ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল, সেখানে এ বছর হয়েছে প্রায় ২০০ মিলিমিটার। ভারতের চেরাপুঞ্জিসহ উজানের অতিবৃষ্টির পানি নদ-নদী ছাপিয়ে হাওরে ঢুকছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি হাওরে আংশিকভাবে বাঁধ কেটে পানি নামানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ নিয়ে নতুন সংকট তৈরি হয়েছে। উজানের কৃষকরা পানি নামাতে বাঁধ কাটতে চাইলে ভাটির কৃষকরা তা প্রতিহত করছেন, কারণ এতে তাদের জমি তলিয়ে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। সব ধান ঘরে তুলতে পারলে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হওয়ার কথা, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা।
কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে ইতোমধ্যে মিনি পাগনার হাওর, হালির হাওর, কাইল্যানি, ছায়ার, পুটিয়ার, ডাকুয়ার, জোয়ালভাঙ্গা ও কানলার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফসলের ক্ষতি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি নদীতে পানি বেশি থাকায় হাওরের পানি নামতে পারছে না।
ডাকুয়ার হাওর এলাকার কৃষক মো. সেলিম বলেন, উজানের কৃষকরা বাঁধ কেটে দিতে চাইছেন, কিন্তু এতে ভাটির জমি তলিয়ে যাচ্ছে। ফলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, নদ-নদী ও খাল-বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি ধারণক্ষমতা কমে গেছে। এ কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই হাওরে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে হাওরে পানির চাপ বেড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. ওমর ফারুক জানান, আগামী ৬ থেকে ৭ এপ্রিল আরও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এতে ফসলের ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে নদ-নদী ও খাল পুনঃখনন এবং পরিকল্পিত পানি ব্যবস্থাপনা ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।
এম এইচ আ




