দোয়ারাবাজারে উপজেলা নির্বাচনে মাঠ চড়ে বেড়াচ্ছেন প্রার্থীরা: আমেজ নেই ভোটারদের মাঝে
সোহেল মিয়া,দোয়ারাবাজার(সুনামগঞ্জ):
প্রকাশিত হয়েছে : 24 May 2024, 8:02 PM
তৃতীয় ধাপে আগামী ২৯ মে অনুষ্ঠিত হবে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এরই মধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা। আসন্ন এই নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির সম্প্রতি এক বহিষ্কৃত নেতাসহ ৫ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী,
ভাইস চেয়ারম্যান পদে ১০ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রচারণা। পোস্টারে পোস্টারে ছেয়ে গেছে পুরো উপজেলার হাটবাজার ও গ্রামগঞ্জ।
প্রতীক বরাদ্দের পর চলছে সুর ও ছন্দে মাইকে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা। ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে কর্মীরা যাচ্ছেন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি। দিচ্ছেন লিফলেট, চাচ্ছেন ভোট। প্রচার প্রচারনায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন প্রার্থী ও সমর্থকরা। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত গ্রামে – গ্রামে, হাটবাজারে উঠান বৈঠক ও নির্বাচনি পথসভা করছেন প্রার্থীরা। ভোটারদের আস্থা অর্জনে দিচ্ছেন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি। সবাই আশাবাদী নিজেদের জয়ের ব্যাপারে। কোন কোন প্রার্থীরা সাধারণ ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনার পাশাপাশি মেলাচ্ছেন রাজনৈতিক নানা সমীকরণ। তবে প্রার্থীরা মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেও ভোটারদের মধ্যে তেমন আগ্রহ নেই। আমেজ নেই ভোটের।
এবারের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে-উপজেলা আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক ইদ্রিস আলী বীরপ্রতীক,উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আমিন,বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ নেতা দেওয়ান তানভীর আশরাফী,আওয়ামীলীগ নেতা দেওয়ান আশিদ রাজা চৌধুরী ও বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা জেলা বিএনপির সহস্থানীয় সরকার বিষয়ক সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুল হক জুয়েল।
ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ নেতা তাজির উদ্দিন,উপজেলা জাতীয় পার্টি (জাপা’র) সাংগঠনিক সম্পাদক নুর হোসেন মোঃ আবদুল্লাহ, দোয়ারাবাজার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ’র সভাপতি বশির আহমদ,যুবলীগ নেতা প্রভাষক আবু বক্কর সিদ্দিক, জে ইউ সেলিম, মোঃ জিয়াউর রহমান,মোঃ রাসেল মিয়া, মো. আবুল কালাম, শরীফ আহমদ, সোনা ধন দে।
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান দুইবারের ভাইস চেয়ারম্যান সালেহা বেগম মিনা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ঝর্ণা রানী দাশ
, লাইলী আক্তার লাকী,মোছাঃ শিরিনা বেগম, শামসুন নাহার নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বরাদ্দকৃত প্রতীক নিয়ে নিজেদের বিজয়ী করতে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন।
তবে এই উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে এবার ভোটারদের মধ্যে তেমন উৎসাহ নেই বললেই চলে। ভোটাররা বলছেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় পরিচয় ও নৌকা প্রতীক না থাকলেও মূলত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন। দেশের বড় দল বিএনপি,জামায়াত সরাসরি এ নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে বিএনপির একজন প্রার্থী হলেও তাকে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় দলের সকল পদ থেকে বহিষ্কার করেছে দলটি। এছাড়া এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের শরীক দলগুলো কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের প্রতিযোগিতা ক্ষীণ হয়ে এসেছে। যদিও অনেকে দাবি করেছেন, অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে বেশ শক্ত লড়াই হবে। সে সঙ্গে দলের মধ্যে এই ভোট নিয়ে ক্রমশ বিভেদ ও গ্রুপিং সৃষ্টি হচ্ছে। দলের সাধারণ কর্মীরা মনে করছেন, এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উপজেলার আওয়ামী লীগ তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে।
নির্বাচন নিয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল হক নমু বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে বিএনপি এই নির্বাচনে কোনো প্রার্থী দেয়নি, এমনকি দলের নেতাকর্মীরাও নির্বাচনের মাঠে নেই। এক দলের প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে। জনগণ এসব নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রত্যাখ্যাত এই নির্বাচনে কোনো আমেজ নেই, নেই কোনো উৎসব।
সারাদেশসংবাদ/হা




