ভারতে গোমূত্র সংগ্রহের প্রকল্প, লিটারপ্রতি মিলবে ২০ রুপি
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : 12 August 2026, 8:09 PM
ভারতে কৃষকদের কাছ থেকে গোমূত্র সংগ্রহের জন্য ‘পাইলট প্রকল্প’ শুরু করেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্যের বুলন্দশহরের ১৫টি গ্রামে চালু হয়েছে এই প্রকল্প।
যোগী আদিত্যনাথ সরকারের লক্ষ্য কৃষকদের আয় বাড়ানো, গ্রামীণ নারীদের অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি এবং দুধ না দেওয়া গরুর রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা করা। একই সঙ্গে ভবিষতে রাসায়নিক কাজের জন্য এ মূত্র মজুদ রাখা।
সায়ানা তহসিলের নারসাইনা গ্রামে ড. প্রবীণের নেতৃত্বাধীন একটি কৃষক উৎপাদক সংগঠনের (এফপিও) মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ লিটার গোমূত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রতি লিটার গোমূত্রের জন্য ২০ রুপি পর্যন্ত দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
গোমূত্র সংগ্রহ ও সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রামগুলোতে ২০০ লিটার ধারণক্ষমতার ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। সংগৃহীত গোমূত্র কৃষিকাজে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে রাসায়নিক কৃষি উপকরণের বিকল্প তৈরির সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই উদ্যোগে রাজ্যটির গ্রামীণ নারীদেরও যুক্ত করা হয়েছে। গোমূত্র সংগ্রহে সহযোগিতা করা নারীদের প্রতি লিটারে ২ রুপি করে কমিশন দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৩০০ নারীকে নিয়ে প্রকল্পটি শুরু হয়েছে এবং তাদের সবাইকে প্রকল্পটির শেয়ারহোল্ডার করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে গোমূত্র সংগ্রহ ও ব্যবহারের বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক নীতি তৈরি করা হবে। পরে তা উত্তরপ্রদেশের অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।
তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে বিরোধী সমাজবাদী পার্টি (এসপি)। দলটি প্রকল্পটিকে ‘কেলেঙ্কারি’ বলে অভিহিত করেছে।
এসপি মুখপাত্র মোহাম্মদ আজম খানের অভিযোগ, নির্বাচনের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যেই এই প্রকল্পের আয়োজন করা হয়েছে। তার দাবি, রাজ্যের গোশালা ও সেখানে থাকা গরুগুলোই নিরাপদ নয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কোনো প্রকৃত উন্নয়ন হবে না।
তবে এসপির অভিযোগের জবাবে বিজেপি মুখপাত্র হিরো বাজপাই বলেন, সমাজবাদী পার্টি সরকারের প্রতিটি উন্নয়নমূলক উদ্যোগের মধ্যেই ত্রুটি খুঁজে বেড়ায়।
সরকারের দাবি, প্রকল্পটি সফল হলে একদিকে কৃষকদের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে গোমূত্রকে কৃষিকাজে ব্যবহার করে রাসায়নিক উপকরণের ওপর নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।
এম এইচ আ



