সিলেটে গৃহপরিচারিকার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে তিন খুন, আটক ১
নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রকাশিত হয়েছে : 12 August 2026, 8:02 PM
সিলেট নগরের রায়নগরে স্বামী-স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় বাবুল মিয়া নামের এক রঙমিস্ত্রিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার বিকেল তিনটার দিকে তাঁকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন।
বুধবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
পুলিশ কমিশনার বলেন, সন্দেহভাজন হিসেবে বাসার রঙের কাজ করা বাবুল মিয়াকে আটক করা হয়েছে। ওই বাড়িতে কাজ করার সুবাদে গৃহপরিচারিকা তাহমিনার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল জানিয়েছেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল নয়টার দিকে বাবুল ওই বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে গৃহপরিচারিকা তাহমিনা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এরপর তাঁরা একটি কক্ষে গেলে দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। তাঁকে বাঁচাতে নিহত আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁকেও হত্যা করে বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে বুধবার সকাল নয়টার দিকে নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন বাসাটির বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী রাইয়া বেগম (৭২) এবং গৃহপরিচারিকা তাহমিনা আক্তার (১৫)। তাহমিনা নগরের জল্লারপাড়া এলাকার আপ্তাব মিয়ার মেয়ে।
নিহত আব্দুস সাত্তার মিতালী আবাসিক এলাকার প্রথম দিকের বাসিন্দাদের একজন ছিলেন। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগের প্রবীণ কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁর এক ছেলে ও তিন মেয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার সকাল নয়টার দিকে ওই বাসার ভেতর থেকে নারীদের চিৎকার শুনতে পান প্রতিবেশীরা। পরে আর কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যায়নি। সকাল ১০টার দিকে বাসাটির দ্বিতীয় তলার বারান্দায় রক্ত দেখতে পেয়ে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসাটি ঘিরে ফেলে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পর বিকেল চারটার দিকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর আগে দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম। তিনি বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁদের আঘাত করা হয়েছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। আটক বাবুলের বক্তব্য ও ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।
এম এইচ আ



