হবিগঞ্জে কবরস্থানের রাস্তা নিয়ে দুই গ্রামের সংঘর্ষ, নিহত ২
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : ১৬ জুন ২০২৬, ৩:৩৪ অপরাহ্ণ
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার আদিত্যপুর ও আব্দাফৌজদা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে কবরস্থানের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দু’দফা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুর থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ও রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষের পর আজ মঙ্গলবারও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নিহতরা হলেন- আদিত্যপুর গ্রামের মৃত ফিরোজ মিয়ার ছেলে সেলু মিয়া (৫৩) এবং গাবরু মিয়ার ছেলে হেলাল মিয়া (৩৭)।
পুলিশ জানায়, দুই গ্রামের মধ্যবর্তী কবরস্থানের পাশের চলাচলের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে সোমবার দুপুরে আদিত্যপুর গ্রামের মিলন ও নাসিরের সঙ্গে আব্দাফৌজদা গ্রামের আব্দুল হাই ও শালু মিয়ার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেও সন্ধ্যায় ডুবাঐ বাজার এলাকায় পুনরায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন।
গুরুতর আহত সেলু মিয়াকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত হেলাল মিয়াকে প্রথমে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে এবং পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে রাত সাড়ে ১১টার দিকে তিনি মারা যান।
আহতদের মধ্যে কদর আলী, লুৎফুর রহমান, আতাউর রহমান, কুহিনুর মিয়া, জাহিদ মিয়া, রিমন, অলফু মিয়া, খলিল মিয়া, সুহেল মিয়া, হাবিব মিয়া, সিমন ও হান্নান মিয়াসহ আরও অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. পারভেজ মোশারফ হোসেন জানান, সংঘর্ষে আহত সেলু মিয়া বিকেলে এবং হেলাল মিয়া রাতে সিলেটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
বাহুবল মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতোমধ্যে একজনকে আটক করা হয়েছে।
এম এইচ আ



