নয়াদিল্লিতে বিএসএফ-বিজিবি বৈঠক শেষ হলো যৌথ সংবাদ সম্মেলন ছাড়াই
ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ জুন ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষস্তরের ৪ দিনের বৈঠক বৃহস্পতিবার (১১ জুন) শেষ হয়েছে। বৈঠকে ২ দেশের সাম্প্রতিক সীমান্ত পরিস্থিতির সাথে সংশ্লিষ্ট নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে শীর্ষ বৈঠক শেষে কোনও যৌথ সংবাদ সম্মেলন হয়নি।
সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রধান মেজর জেনারেল মহম্মদ আশরাফুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল নয়াদিল্লিতে পৌঁছে বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমারসহ অন্যান্য কর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছিলেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) দিল্লির লোদী রোডে বিএসএফের সদর দপ্তরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল ভারত-বাংলাদেশ ৫৭তম সীমান্ত শীর্ষ বৈঠক।
কিন্তু নজিরবিহীনভাবে শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ আলোচনার নথিতে সই পর ২ বাহিনীর ডিজি প্রথা মেনে যৌথ সংবাদ সম্মেলন করেননি। শুধু কী কী বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সে সম্পর্কে একটি প্রেস বিবৃতি দেওয়া হবে।
২ দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের ইতিহাসে এই প্রথম এমন ঘটনা ঘটল।
চলতি বছরের গোড়ায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনের পরে ঢাকায় বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এবং পশ্চিমবঙ্গে নতুন বিজেপি সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর এটিই ছিল প্রথম বৈঠক। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ রোববার (৭ জুন) ঢাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে, বিএসএফের তথাকথিত ‘পুশ ইন’ ও সীমান্তে গুলি চালানোর ঘটনাগুলো তারা বৈঠকে উত্থাপন করবেন।
বলে রাখা ভালো, ২ দেশের মধ্যে ডিজি-স্তরের সীমান্ত বৈঠক ১৯৭৫-১৯৯২ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হত। তবে, ১৯৯৩ সালে এটিকে বছরে দুই বার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যেখানে উভয় পক্ষ পর্যায়ক্রমে নয়াদিল্লি ও ঢাকায় বৈঠকে অংশ নেয়। বিএসএফ-বিজিবি সর্বশেষ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্টে ঢাকায়। তখন বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় ছিল।
ভারত-বাংলাদেশের মোট ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক সীমান্তের অর্ধেকেরও বেশি (২ হাজার ২১৬ কিলোমিটার) পশ্চিমবঙ্গে অবস্থিত। সীমান্তের প্রায় ৮৬০ কিলোমিটার অংশ এখনও বেড়াবিহীন রয়েছে, যার মধ্যে ১৭৪.৫১ কিলোমিটার এমন এলাকা রয়েছে যেখানে বেড়া নির্মাণ সম্ভব নয়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে, তারা অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে এবং অনুপ্রবেশকারী ব্যক্তিদের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট বা শনাক্ত, তালিকা থেকে বাদ ও বহিষ্কারের পর্যায়ক্রমিক থ্রিডি অ্যাকশনের মুখোমুখি হতে হবে।
- নীরব চাকলাদার



