স্বামী জীবিত তবুও বিধবা ভাতা নিচ্ছেন ইউপি সদস্যা
দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
প্রকাশিত হয়েছে : ০৮ জুন ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলায় জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিধবা ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে এক নারী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত বকুল আক্তার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বকুল আক্তার তার স্বামী জীবিত থাকা সত্ত্বেও বিধবা পরিচয়ে সরকারি ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। তিনি নিজে জনপ্রতিনিধি হওয়ায় এবং সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এই সুবিধা ভোগ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বকুল আক্তারের স্বামী মো. আজগর আলী বাংলাবাজার ইউনিয়নের কলোনী গ্রামের বাসিন্দা। উপকারভোগীদের তালিকায় বকুল আক্তারের নাম বিধবা ভাতার সুবিধাভোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে বকুল আক্তার বলেন, “আমার এক মেয়ে প্রতিবন্ধী। ভাতার টাকাটা সে খায়। ডিসি স্যার নিজেই বলে দিয়েছিলেন।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দা শফিক মিয়া বলেন, “বকুল আক্তারের স্বামী জীবিত। তিনি এলাকায় চলাফেরা করেন এবং স্ত্রীর আয়ের ওপর নির্ভর করে চলেন। জীবিত স্বামীকে মৃত দেখিয়ে কীভাবে বিধবা ভাতা নেওয়া সম্ভব, সেটিই প্রশ্ন।”
স্থানীয়দের দাবি, বকুল আক্তার ইউপি সদস্য হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন সমাজকর্মীদের সঙ্গে যোগসাজশে ভাতার বই তৈরি করেছেন। এর আগে অর্থের বিনিময়ে অনিয়ম করে ভাতার কার্ড তৈরি এবং অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছিল বলে তারা জানান।
এ বিষয়ে বাংলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল হোসাইন বলেন, “বকুল আক্তার যখন নির্বাচিত হন, তখন তার স্বামী ছিল না। সে কারণে তিনি ভাতার সুবিধা পেয়েছিলেন। পরে শুনেছি তিনি হয়তো বিয়ে করেছেন। তবে এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো প্রমাণ নেই। প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দোয়ারাবাজার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শফিউর রহমান বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা কাজ করি। তবে স্বামী জীবিত থাকা অবস্থায় বিধবা ভাতা পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অরূপ রতন সিংহ বলেন, “মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিধবা ভাতা গ্রহণ করা গুরুতর অপরাধ। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এম এইচ আ




