শিলাবৃষ্টিতে আতঙ্কিত সুনামগঞ্জ হাওরের কৃষক
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ মার্চ ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
সুনামগঞ্জে টানা দুই দিন শিলাবৃষ্টি হওয়ায় হাওরপারের কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসলের সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
শনিবার (১৪ মার্চ) রাত ও রোববার (১৫ মার্চ) সকালে জেলার দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর ও সদর উপজেলায় হঠাৎ ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। কয়েক মিনিটের তীব্র শিলাবৃষ্টিতে অনেক স্থানে ধানক্ষেতের গাছ নুয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩৭টি হাওরে প্রায় ১০ লাখ কৃষক দুই লাখ ২৩ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছেন। আর প্রায় এক মাস পরই এই ধান ঘরে তোলার কথা কৃষকদের। এর মধ্যেই শিলাবৃষ্টি শুরু হওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
হাওরপারের অনেক কৃষক নিজেদের জমিতে গিয়ে ধানের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, শিলাবৃষ্টি বাড়লে ধানের শিষ ভেঙে যেতে পারে এবং গাছ মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পারে।
দিরাই উপজেলার মাইট্টাপুর গ্রামের কৃষক মুতালিব উল্লা বলেন, “সারা বছর আমরা এই বোরো ধানের অপেক্ষায় থাকি। অনেক কষ্ট করে চাষ করেছি। এখন যদি শিলাবৃষ্টি বাড়ে, তাহলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।”
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার কালিপুর গ্রামের কৃষক শফিক আহমেদ বলেন, “ধানের শিষ আসতে শুরু করেছে। এই সময় ঝড় বা শিলাবৃষ্টি হলে ধান মাটিতে পড়ে যায়। তখন ফলন কমে যায়। তাই খুব দুশ্চিন্তায় আছি।”
জামালগঞ্জ উপজেলার বড় ঘাগটিয়া গ্রামের কৃষক লতিফ মিয়া বলেন, নিজের জমি না থাকায় অন্যের জমিতে আবাদ করেছেন। গত দুই দিনের শিলাবৃষ্টির কারণে ধানের ফলন নিয়ে এখন তিনি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ওমর ফারুক বলেন, জেলার পাঁচটি উপজেলায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ধানের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। শিলাবৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আবির




