নেপালে নির্বাচনের আগে রাজতন্ত্র ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিশাল সমাবেশ
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
গত সেপ্টেম্বর জেন-জি তরুণদের নেতৃত্বে দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে ৭৭ জন নিহত হন। আন্দোলনের চাপে প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। আগামী ৫ মার্চ নতুন সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র-এর সমর্থনে রাজতন্ত্রপন্থিদের বড় সমাবেশ দেখা গেছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানী কাঠমান্ডুতে হাজারো সমর্থক তিন মাস পর দেশে ফেরা জ্ঞানেন্দ্রকে স্বাগত জানাতে ভিড় জমান। বিমানবন্দর থেকে বাসভবনে ফেরার পথে তার গাড়ি ঘিরে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
এ সময় ‘রাজা ফিরে আসুন, দেশকে বাঁচান’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। জাতীয় পতাকা নেড়ে ও ফুলের তোড়া দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান উপস্থিত জনতা।
২০০৮ সালে সাবেক মাওবাদী বিদ্রোহীদের প্রভাবাধীন একটি বিশেষ আইনসভা নেপালের রাজতন্ত্র বিলুপ্ত করে দেশটিকে ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রে রূপ দেয়। এরপর থেকে ৭৮ বছর বয়সী জ্ঞানেন্দ্র সাধারণ নাগরিক হিসেবে কাঠমান্ডুর ব্যক্তিগত বাসভবনে বসবাস করছেন।
গত ১৮ বছরে দেশটিতে ১৪ বার সরকার পরিবর্তন হয়েছে। ধারাবাহিক এই রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা নড়বড়ে হয়েছে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শ্লথ হয়েছে।
৫৫ বছর বয়সী সমর্থক সনাতন প্রসাদ রেগমি বলেন, রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। তার দাবি, একমাত্র রাজাই পুরো নেপালি জনগণের অভিভাবক হতে পারেন, যেখানে বহু দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতা সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রে আমাদের কোনো লাভ হয়।’
প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রজন্মসহ অনেক নেপালি বর্তমান সরকারের প্রতি ক্রমবর্ধমান হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, শাসকগোষ্ঠী উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।
আগামী ৫ মার্চ নতুন সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ২৭৫ আসনের এ নির্বাচনে রাজতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পক্ষে থাকা একটি দলসহ মোট ৬৫টি রাজনৈতিক দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী পুরোনো দলগুলোর বিপরীতে নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন দুই জনপ্রিয় নেতা—র্যাপার থেকে কাঠমান্ডুর মেয়র হওয়া বালেন্দ্র শাহ এবং সাবেক টিভি উপস্থাপক থেকে রাজনীতিতে আসা রবি লামিছানে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশে এবার প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের পর নতুন করে প্রায় ১০ লাখ ভোটার যুক্ত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই তরুণ।
আন্তর্জাতিক/আবির




