কিছুদিন আগেই অন্তর্জালে উন্মুক্ত হয়েছে রণবীর সিং অভিনীত ‘ধুরন্ধর’ সিনেমার ট্রেলার। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনুরাগীদের উত্তেজনা তুঙ্গে। মারকাটারি অ্যাকশনের এই ট্রেলার নিয়ে চলছে তুমুল প্রশংসা।
এরমধ্যেই এবার আইনি বিপাকে সিনেমাটি।
প্রয়াত ভারতীয় সেনা কর্মকর্তা অর্থাৎ শহীদ মেজর মোহিত শর্মার জীবনের ওপর এই ছবি নির্মাণ করা হয়েছে বলে চর্চা শুরু হয়েছে।ট্রেলারের এক ঝলকের কিছু দৃশ্য মেজর মোহিতের জীবন ও তার গুপ্তচর অভিযানের সঙ্গে মিলে যায় বলে দাবি করেছেন মোহিত শর্মার মা ও বাবা। এত মিল থাকা সত্ত্বেও কোনো কৃতজ্ঞতা স্বীকার করা হয়নি এবং অনুমতিও নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন তারা।
তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, “একজন শহীদের জীবন কখনোই বাণিজ্যিক পণ্য হয়ে উঠতে পারে না।
আর্থিক লাভের জন্য অনুমতি ও সম্মান ছাড়া তার জীবনকে নতুন করে তুলে ধরা যায় না।”কোনো রকমের অনুমতি ছাড়া মোহিত শর্মার জীবন নিয়ে ছবি করা আইনতও সম্মত নয়। তাই আদালতের দ্বারস্থ হয়ে ছবির মুক্তি আটকাতে উদ্যত হয়েছেন তারা।
এই ছবি মুক্তি পেলে জাতীয় নিরাপত্তা লঙ্ঘিত হতে পারে, এই আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন মেজর মোহিত শর্মার বাবা ও মা।
যদিও শুরুর দিকে শোনা গিয়েছিল ছবিটিতে রণবীরকে দেখা যাবে মেজর মোহিত শর্মার চরিত্রে। তবে এই দাবি স্বীকার করেননি পরিচালক।
এবার আইনি বিপাকের মাঝে ছবির পরিচালক আদিত্য ধর জানিয়েছেন, এই ছবির সঙ্গে মোহিত শর্মার কোনো যোগ নেই।
আদিত্যের ভাষ্য, ‘আমাদের ছবি মোটেই নির্ভীক মেজর মোহিত শর্মার জীবন থেকে উদ্বুদ্ধ নয়। এটা আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করছি।
আমরা ভবিষ্যতে যদি তার জীবনীচিত্র তৈরি করি, তার পরিবারের অনুমতি নিয়েই করব। এমনভাবে তৈরি করব যাতে তার ত্যাগকে সম্মান জানানো যায়।’উল্লেখ্য, মেজর মোহিত শর্মা ছিলেন একজন ভারতীয় সেনা অফিসার। ২০০৯-এ তিনি জম্মু ও কাশ্মীরের কুপওয়ারা সেক্টরের হাফরুদা বনে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়েন। তিনি এই প্রক্রিয়াটিতে চার সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছিলেন এবং দুই সতীর্থকে উদ্ধার করেছিলেন তবে একাধিক গুলির ক্ষত টিকিয়ে রেখে তিনি আহত হন। সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সময়ই মৃত্যুবরণ করেন তিনি। এই কাজের জন্য তিনি মরণোত্তর অশোকচক্রকে ভূষিত করেছিলেন, এটি ভারতের সর্বোচ্চ শান্তির সময় সামরিক সম্মান।