ট্রাম্পের ভাষণের পর লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম, শেয়ারবাজারে ধস
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজারের দরপতন হয়েছে।
ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায়) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে কী বলেন সে দিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শুনে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা তৈরি হয়। এর জেরেই ক্রুড অয়েলের দাম ফের লাফিয়ে বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান।
ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।
বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহণ করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহণ করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।
প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়।
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল, ইরান আক্রান্ত হলে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বাড়বে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তেল যেহেতু বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাই দামের যে কোনো উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে।
এমন শঙ্কার মধ্যে ইরানে হামলা শুরু হলে ৩ মার্চ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর থেকে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ থাকায় হু হু করে বাড়তে থাকে জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।
কিন্তু ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের পর এখন তা ৫ শতাংশ লাফ দিয়ে বেড়ে ১০৬.২৯ ডলারে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪.২৯ ডলারে উঠেছে।
আজকের ভাষণে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো তেল আসে না আমেরিকার। ওই রুটের ওপর আমেরিকা নির্ভরশীল নয়। আমাদের ওখানকার তেলের দরকারও নেই। এরপর হরমুজ প্রণালির ওপর যেসব দেশ নির্ভরশীল তাদের এগিয়ে আসতে বলেন ট্রাম্প। প্রয়োজনে তাদের সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন।
ইন্টারক্যাপিটাল এনার্জির আলবার্তো বেলোরিন বলেন, আসন্ন যুদ্ধবিরতি নিয়ে আগের আশাবাদের পর এই বৃদ্ধি বাজারের জন্য একটি স্পষ্ট বাস্তবতার প্রতিফলন।
তিনি আরও যোগ করেন, ট্রাম্পের ভাষণে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার জন্য কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ছিল না, এবং স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরা এখন সপ্তাহের পরিবর্তে কয়েক মাস দূরে বলে মনে হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভাষণের পর এশিয়ার প্রধান শেয়ারবাজারে ধস নামতে দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে, দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি সূচক ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পতন হয়েছে এবং হংকংয়ের হ্যাং সেন সূচক ১ শতাংশ নিম্নমুখী ছিল।
ফেব্রুয়ারির শেষে ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এই অঞ্চলের শেয়ারবাজারগুলো অস্থিতিশীল রয়েছে।
এদিকে, মার্কিন স্টক ফিউচারও নিম্নমুখী ছিল – যা বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াল স্ট্রিটের নিম্নমুখী সূচনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডাও জোন্স এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়, অন্যদিকে নাসডাক ফিউচার প্রায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পায়।




