১৩ লাখ টাকা দিয়ে পাড়ি, সাগরেই নিভে গেল মুহিবুরের জীবন
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ণ
উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপ পাড়ি জমাতে গিয়ে ভূমধ্যসাগরেই প্রাণ হারিয়েছেন সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মুহিবুর রহমান (২৪)। তার মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার ও স্বজনরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভাতগাঁও ইউনিয়নের গাগলাজুর গ্রামের নুরুল আমিনের চার ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছিলেন মুহিবুর। ইউরোপ যাওয়ার জন্য তিনি সুদে ৫ লাখ টাকা এনে এবং জমিজমা বন্ধক রেখে দালালকে মোট ১৩ লাখ টাকা দেন।
মুহিবুরের সঙ্গে একই নৌকায় থাকা জগন্নাথপুর উপজেলার সাদিপুর গ্রামের মারুফ আহমদ গ্রিস পৌঁছে ফোনে তার মৃত্যুর খবর পরিবারকে জানান। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় নৌকায় থাকার কারণে মুহিবুরের মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করলে সেটি সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। ফলে তার মরদেহের কোনো সন্ধান মেলেনি।
পারিবারিক সদস্যরা জানান, দালালের সঙ্গে বিমানযোগে গ্রিস পাঠানোর চুক্তি থাকলেও মুহিবুরকে সৌদি আরব, মিশর হয়ে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে রাবারের নৌকায় তুলে দেওয়া হয় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার জন্য।
টানা ছয় দিন ছয় রাত সাগরে ভেসে থাকতে হয় তাদের। খাবারের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে মুহিবুর। একপর্যায়ে নৌকাতেই তার মৃত্যু হয়।
মুহিবুরের চাচাতো ভাই ও সাবেক ইউপি সদস্য সুনু মিয়া বলেন, মৃত্যুর খবর শুনে পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ছোট ভাই হাফিজুর রহমানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মা মহিমা বেগম শয্যাশায়ী, আর বাবা নুরুল আমিন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবির ঘটনায় ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৩ জনই সুনামগঞ্জ জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এম এইচ আ




