অণুগল্প: খেয়া ঘাটের স্মৃতি

সুলেখা আক্তার শান্তা
প্রকাশিত হয়েছে : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ৮:০৩ অপরাহ্ণরাতে প্রচন্ড ঝড় হয়েছিল। ঝড় সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়ে গেছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে সবাই দেখে সব কিছু ভেঙ্গে চুরে একাকার। তা দেখে কৈশোর মনে আমিও হতবাক! সকালে স্কুলে যাব। স্কুলে যাবার পথে মাঝখানে একটা সাঁকো ছিল। সাঁকোটা ভেঙ্গে গেছে অনেকদিন। খাল পারাপারের জন্য এখন খেয়া নৌকা ভরসা। লোকজন খেয়া নৌকায় পার হয়। সেদিন স্কুলে বের হতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাড়াতাড়ি নৌকায় উঠলাম।
খেয়াতে ওপারে নেমেই চলতে শুরু করলাম। পিছন থেকে হয়তো নৌকার মাঝি আমাকে ডাকেছে আমি তা লক্ষ্য করিনি। মাঝিকে পারাপারের টাকা দিতে ভুলে গেছি। বেশ কিছুটা পথ যাবার পর দেখি একটি ছেলে এগিয়ে আসছে। সহজে দৃষ্টি আকর্ষণের মতো পরিপাটি চেহারা। আমাকে কিছু বলবে চোখে মুখে এমন ভঙ্গি। কাছে আসতে এক হাত পকেটে দিয়ে অন্য হাতে ঝাঁকড়া চুলটা ঠিক করে নেয়। সুন্দর একটা হাসি দিয়ে বলে, আপনাকে নৌকার মাঝি ডাকছিল।
কেন?
খেয়া পারের টাকা দেওয়ার জন্য।
আমি লজ্জা পেলাম। টাকা দিতে খেয়াঘাটে ফিরে গেলে স্কুলে দেরি হয়ে যাবে। বললাম, এখন কি করি!
ছেলেটি বলল, সমস্যা নাই আমি টাকা দিয়ে দিয়েছি। আবার সেই সুন্দর হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠলো ছেলেটার মায়াবী মুখ। টাকাটা তাকে ফেরত দেওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গেলাম। এক ঝলক দেখা, সেই প্রথম সেই শেষ। এক টাকার ঋণ আর কোনদিন পরিশোধ করা হয়নি। ছেলেটির কথা ভীষণ মনে পড়ে। আজও তার প্রাণ খোলা হাসি ভুলতে পারিনি। জানিনা কোথায় আছে কেমন আছে। মনে আছে কি তার খেয়া ঘাটের টাকা দেওয়ার কথা।
সাহিত্য/হান্নান