তাসলিমা খানম বীথি’র সাতাশ কিলোমিটারের দাম্পত্য : দুঃখানন্দের এপিঠ-ওপিঠ

মো. আব্দুল বাছিত
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ আগস্ট ২০২২, ৩:২৪ অপরাহ্ণতাসলিমা খানম বীথি জীবনবাদী গল্পকার। তিনি একাধারে সাংবাদিক, উপস্থাপক এবং একজন আন্তরিক ব্যক্তিত্ব। আন্তরিকতা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং দক্ষতা-পরিচ্ছন্নতার সার্থক প্রতিচ্ছবি। ব্যক্তিগত জীবন অফিসিয়াল কর্মকা- দিয়ে শুরু হলেও জীবনের বিস্তৃত ধারায় যোগ হয় নানামাত্রিকতা। তিনি একাধারে হয়ে ওঠেন বিশ্বাস, আস্থা এবং নির্ভরতার প্রতীক। পেশাগত জীবনেও তিনি হয়ে ওঠেন সবার প্রিয়, আপনজন! নিজের যোগ্যতা এবং কর্মবলে ছুঁয়েছেন বিশ্বাসের স্বর্ণচূড়া।
‘
সাতাশ কিলোমিটারের দাম্পত্য’ একটি গল্পগ্রন্থ। গভীর জীবনোপলব্ধি, পরম বিশ্বাসবোধ এবং আত্মজৈবনিক চেতনা এ গ্রন্থের মৌল তাড়না। গল্পের আঙ্গিকে তৈরি গল্পগুলো যেন জীবনের প্রতিচ্ছবি। বাস্তবিক দৃষ্টিতে এবং সামগ্রিক চেতনার নির্যাস থেকে বলা যায়Ñপ্রতিটি গল্পই যেন পরমতার ধ্যানে সিক্ত। গল্পকার তাসলিমা খানম বীথির মৌল ধ্যান এ গল্পগুলোতে জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে। ব্যক্তিমাত্রিক চিন্তা থেকে তাঁর গল্পগুলো হয়ে উঠেছে সমাজের সামগ্রিক চিত্র। কোনো একটি সংসার কিংবা বিশ্বাসের পরম আঁচলে বাঁধা একটি সম্পর্ককে ত্রিমাত্রিক উপস্থাপনে যথেষ্ট পরাঙ্গমতা দেখিয়েছেন গল্পকার তাসলিমা খানম বীথি। এখানেই তার ব্যক্তিচিন্তার দ্যোতনা গভীরভাবে প্রযোজিত। অবশ্যই এর পেছনে নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা, শ্রম এবং একাগ্রতা।
‘সাতাশ কিলোমিটারের দাম্পত্য’ গল্পগ্রন্থে গল্পকার মোট পনেরোটি গল্পকে স্থান দিয়েছেন। গল্পগুলো হচ্ছেÑ‘জোনাকির আলো, বিয়ের ফুল, অপেক্ষার প্রহর, রসুন, দুই কেজি চাল, এক বুক শূন্যতা, বাজান, বংশের প্রদীপ, হারিয়ে যাওয়া প্রেম, মায়ারুনের মুক্তি, মৃত্যু যেন এক ম্যাজিকের নাম, এক চিমটি ভালোবাসা, এক টুকরো কাগজ অতঃপর…, সাতাশ কিলোমিটারের দাম্পত্য, বিচ্ছেদ’। প্রতিটি গল্পের বিষয়বস্তুই সামাজিক নিগঢ়ে আবদ্ধ। জীবনের চড়াই-উতরাই এবং নানামাত্রিক টানাপোড়েন নিয়ে গল্পের বিষয়বস্তু আবর্তিত হয়েছে। আর প্রতিটি গল্পই দাবি রাখে গভীর পর্যালোচনার। নিম্নে ধারাবাহিকভাবে গল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো।
তাসলিমা খানম বীথির গল্পগুলো জীবনচেতনায় ভরপুর। ব্যক্তিজীবনের সুখ-দুঃখ, আশা-নিরাশা, পাওয়া-না পাওয়া এবং প্রেম-ভালোবাসার চিত্র ফুটে উঠেছে ‘জোনাকির আলো’ গল্পে। গল্পের তুহিন এবং জোনাকি। দুজন দুজনকে প্রচ- ভালোবাসে। জীবনকে সাজাতে তাদের অবারিত স্বপ্ন খেলা করে চোখে। কিন্তু এ স্বপ্নের পথে এসে বাধা হয়ে দাঁড়ায় সামাজিক মর্যাদা নামক বস্তুটি। জোনাকি প্রাইভেট চাকুরি করে। অপরদিকে মিলি সরকারি চাকুরি করে। আর এই সরকারি চাকুরিই তাদের ভালোবাসার মিলনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তুহিনের বড় বোন শারমিনের বান্ধবী মনির ছোটবোন মিলি। শারমিনই তুহিনের সাথে বিয়ে ঠিক করে মিলির। বাবা-মায়ের অবর্তমানে শারমিনই তুহিনকে মা-বাবার স্নেহ দিয়ে বড় করেছে বলে কোনো কথা বলতে পারে না। কিন্তু তুহিনের মন বিষিয়ে ওঠে ভালোবাসা হারানোর আর্তনাদে। এদিকে জোনাকির জীবনেও আসে চরম বিষাদময় অধ্যায়। জীবনটা হয়ে যন্ত্রণার। তুহিনও একসময় বাবা হয়। তবে অস্তিত্বের রেখে দেয় জোনাকির প্রেম। গল্প এগিয়ে যায়। এগিয়ে যায় মানুষের পাওয়া-না পাওয়ার হিসেব! এ হিসেবে কেউ থাকে খুব দক্ষ আর কেউ একেবারে আনকোরা! তবুও মানুষ ভালোবেসে যায়! ভালোবাসা আটকানোর কোনো জিনিস নয়!
‘সাতাশ কিলোমিটারের দাম্পত্য’ গল্পগ্রন্থের দ্বিতীয় গল্প ‘বিয়ের ফুল’। এ গল্পটির ভেতরে লুকিয়ে আছে বাস্তব সমাজের নির্মম চিত্র। যে নির্মমতায় পিষ্ট হয়ে অসংখ্য নারীর স্বপ্ন, আশা-ভরসা এবং ভালোবাসা ধূলিস্যাৎ হয়ে যাচ্ছে। নিলু এবং মায়া চরিত্রের মাধ্যমে গল্পকার অত্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন মানুষের বিকারগ্রস্ত মনের বহুমুখীতা। মনুষ্যত্ব এবং মূল্যবোধকে ধ্বংস করে লোভ-লালসা এবং বাহ্যিক সৌন্দর্য কীভাবে মুখ্য হয়ে ওঠে গল্পকার তাই তুলে ধরেছেন গল্পে। নিলু এবং মায়া চরিত্রের একটি অবশ্যম্ভাবী পরিণয় সংঘটিত হলেও সেখানে থেকে অনিশ্চয়তার ঘনকুয়াশা। অবশেষে দুজনেরই বিয়ের ফুল ফোটে।
তাসলিমা খানম বীথির গল্পগ্রন্থের তৃতীয় গল্প ‘অপেক্ষার প্রহর’। এ গল্পটি মূর্ত প্রতারণার এক বিবর্ণ চিত্র। একটি সম্ভাবনাময় সম্পর্ক কীভাবে অবিশ্বাসে রূপ নেয় তার সার্থক চিত্র অঙ্কন করেছেন গল্পকার। নিঝু প্রচন্ড ভালোবাসে শোভনকে। তাদের দেখা করার কথা পার্কে। নির্দিষ্ট সময় থেকে নিঝু অপেক্ষা করে অসংখ্য ক্ষণ। যোগাযোগমাধ্যমে ব্যর্থ হয় নিঝু। একটি নাটকীয় পরিণতি ঘটে গল্পের। নিঝু শেষে আবিষ্কার করে, যে শোভনের সাথে দেখা করার কথা সে-ই অন্য একটি মেয়ের সাথে ফুর্তিতে ব্যস্ত। মর্মাহত হয় নিঝু। বিশ্বাস এবং ভালোবাসা রূপ নেয় অবিশ্বাস ও ঘৃণায়।
‘সাতাশ কিলোমিটারের দাম্পত্য’ গ্রন্থের চতুর্থ গল্প ‘রসুন’। এ গল্পে একটি ভয়াবহ সময়ের কথা উল্লেখিত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির প্রকোপে জনজীবনে যে অস্থিরতা, ভয় ও শঙ্কা অন্তর্জাত হয়েছে এর একটি সার্থক চিত্র তুলে ধরেছেন লেখক। সামাজিক জীবনের দায়বদ্ধতা এতই নিচে নেমে এসেছে যেÑমানুষ একটি রসুন দিতেও আতঙ্কিত হচ্ছে। অবশ্য এর মাঝেও যে পারস্পরিক সহানুভূতি এবং কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে তাই এ গল্পের ইতিবাচক দিক। গল্পের তিনটি চরিত্র জামিল, নীলা এবং মেঘলা। প্রথম দুজন স্বামী-স্ত্রী। ঘটনাচক্রের পরিচয়ে মেঘলা জামিলের প্রতি কৃতজ্ঞতাকে প্রকাশ করে।
‘দুই কেজি চাল’ একটি প্রতীকি গল্প। করোনা বিশ্বের এক আর্তনাদময় চিত্র ভেসে উঠেছে এ গল্পে। গল্পের প্রধান চরিত্র তারিন। একজন সামান্য চাকুরিজীবী। জীবনযুদ্ধে সম্মুখীন হয় একজন সিএনজি ড্রাইভারের আবার একজন মুরগি বিক্রেতার। অস্তিত্বের লড়াই যেখানে প্রকট, সেখানে দুই কেজি চাল যেন বেঁচে থাকার একটুখানি। কঠিন সংগ্রাম এবং মানবিকতার করুণ চিত্রে গল্পটি সৌন্দর্যময় হয়ে ওঠেছে।
‘এক বুক শূন্যতা’ গল্পে ফুটে উঠেছে পাওয়া-না পাওয়ার অন্তর্জ¦ালা। গল্পের দুটি প্রধান চরিত্র মাহমুদ ও জেরিন। বুকের শূন্য পকেটে লুকানো যে ভালোবাসা তাই বিচ্ছেদে রূপ নিয়েছে না বলায়। সময়ের ঘূর্ণাচক্রে পারস্পরিক যোগাযোগ সেই বিচ্ছেদকে মিলনে রূপ দিতে পারেনি বাস্তবতায়। এখানেই ঘটেছে সম্পর্কের ট্র্যাজেডি।
‘বাজান’ গল্পটি বাস্তব জীবনের এক জীর্ণ অভিজ্ঞতা। যেই অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে আবেগ-অনুভূতি এবং ভালোবাসা। এছাড়া প্রবল স্মৃতিকাতরতা, শ্রদ্ধাবোধ, মমত্ববোধ, মর্মভেদী হাহাকার এই গল্পকে করেছে ব্যঞ্জিত। একশোর্ধ ব্যক্তির প্রতি তাঁর মেয়ের মায়ের মতো ভালোবাসা যে কোনো পাঠককেই করবে শিহরিত, আন্দোলিত!
‘
বংশের প্রদীপ’ জাহিলি সমাজের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। প্রবাসী জহিরের বউ আয়েশা। মেয়ে সন্তান জন্ম দেয় বলেই যত্তসব বিপত্তি তার! যেখানে জহিরের পরিবার চায় বংশরক্ষার একটি প্রদীপÑছেলে সন্তান! এ আবেদন জহিরেরও! এ দাবি পূরণ করতে পারে না বলেই চলে নির্যাতনের স্টিমরোলার! অবশেষে আয়েশা নানা নাটকীয়তায় জন্ম দেয় একটি পুত্র সন্তানের! কিন্তু তার নিজেরই নিভে যায় জীবন প্রদীপ! মাঝখানে নির্মমতার সাক্ষী হয়ে যায় তাঁর প্রতি জুলুম-নির্যাতন এবং নানামাত্রিক অবহেলা। একবিংশ শতাব্দীর এ জাহিলিয়াতকে অত্যন্ত সুন্দর করে তুলে ধরেছেন গল্পকার।
‘
হারিয়ে যাওয়া প্রেম’ গল্পটি দাঁড়িয়ে আছে অপরিচিত সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে। গল্পের প্রধান চরিত্র আলম এবং কবিতা। কবিতা আবৃত্তিকে কেন্দ্র করেই সম্পর্কের ঘনীভূত হওয়া। অবশ্য এর পেছনে ছিল আলমের ঐকান্তিকতা। সময়ে অসময়ে কবিতাকে কবিতা শুনানো। তারপর হারিয়ে যাওয়া! এমনই ভরপুর অনিশ্চয়তায় গল্পটি এগিয়ে যায়। শেষপর্যন্ত কবিতা জানতে পারে আলমের অস্তিত্বহীনতা! তবে এর আগে আলম কবিতার শূন্য হৃদয়ে জায়গা করে নেয়! তবে তা শেষ পর্যন্তই অধরা থেকে যায় কবিতার কাছে!
‘মায়ারুনের মুক্তি’ একটি স্বার্থপর সমাজের ঘৃণিত চিত্র। পেশায় নার্স মায়ারুন। নিজেও সন্তানসম্ভবা। করোনার প্রাদুর্ভাব চারিদিকে। কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার জাঁতাকলে পিষ্ট মানবসভ্যতা! কিন্তু মায়ারুন নিঃস্বার্থভাবে সেবা দিয়ে যায়। ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়ে মায়ারুন মুক্তি নেয় পৃথিবীর কাছ থেকে! তবে দৃষ্টান্ত রেখে যায় পরোপকার, সেবা, মানবিকতা, মনুষ্যত্ব এবং পরার্থতার! ঘাতক করোনা তাঁকে করে দেয় মহীয়ান ও গরিয়ান!
‘মৃত্যু যেন এক ম্যাজিকের নাম’ গল্পটি তাত্ত্বিকতায় পূর্ণ একটুখানি উপলব্ধি। যে জীবন কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ সে জীবনের চেয়ে আনন্দের আর সার্থকতার কী হতে পারে? গল্পের চরিত্র শীলার প্রতি একজন চালকের কৃতজ্ঞতাই এখানে মুখ্য বিষয়। পাশাপাশি চৈতন্যের আদলে প্রকাশ পেয়েছে মানুষের একাকিত্ব, বিষণœতা এবং ভালোলাগার আবহ! সবকূল ছাপিয়ে মূর্ত হয়ে ফুটে উঠেছে নিত্যমানুষের স্বাভাবিক চালচিত্র! যেখানে মানুষ খোঁজে জীবনের আনন্দ! ঠিক ওই গল্পের সিএনজি চালকের মতো!
‘এক চিমটি ভালোবাসা’ উপলব্ধিময় ভালোবাসা ও প্রতারণার কালচিত্র! একটি ঘৃণ্য ইচ্ছা চরিতার্থে ব্যর্থ নাহিদ অটোমেটিক দূরে চলে যায় জয়ার থেকে! অন্ধকারে হারিয়ে যেতে থাকে সে! কিন্তু জয়া তাকে ভালোবাসে আজো! অবশেষে ভাগ্যচক্রে নাহিদের জীবনে চরম ও কালো অধ্যায়! তার উপলব্ধির দরজা খোলে যায়! ততক্ষণে বেশি দেরি হয়ে গেছে! গল্পের যবনিকায় উপলব্ধ সত্যিকার ভালোবাসায় থাকে না কোনো স্বার্থ! সেখানে থাকে কেবলই ভালোবাসা! যা নাহিদ বুঝেছে জীবনসায়াহ্নে। অথচ জয়ার ভেতরে ছিল এক চিমটি ভালোবাসার লোভ! এ লোভে পা দেয়নি নাহিদ! তাই তো সে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শেষপর্যন্ত।
‘এক টুকরো কাগজ অতঃপর..’ গল্পটি দাঁড়িয়ে আছে হেলুসিনেশনের ওপর ভিত্তি করে। গল্পকারের চিন্তার জগতে ঘুরপাক খাওয়া অনুভূতি এবং তনুর উপস্থিতি এ গল্পকে করেছে আকর্ষণীয়। জৈবনিক প্রবাহের মতো যে প্রাণের উপস্থিতি গল্পের মাধ্যমে তা যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। তবে শেষপর্যন্ত তার অস্তিত্বহীনতা এবং অসারতা করে দেয় মর্মাহত। তবুও বাস্তবতাকে মেনে নিতে হয় কঠিনভাবে! গল্পকার নিজেই উপলব্ধি করেছেন অস্তিত্বহীন উপস্থিতি! আর তা কেবল মনস্তাত্ত্বিকতায়; যেটা মিশে আছে শরীরের অস্থি-মজ্জায়! একটি আবেগময় ও শূন্যতায় রিক্ত হয়েছে গল্পের যবনিকাপাত!
‘সাতাশ কিলোমিটারের দাম্পত্য’ গ্রন্থের নামগল্প এটি। গল্পের প্রধান চরিত্র শরীফ চৌধুরী ও আফসানা বেগম। খুবই ভালোসাময় সংসার। একসাথে পাড়ি দিয়েছেন অনেক পথ। মান-অভিমান আর খুনসুঁটিতে কেটে গেছে তাদের সংসারজীবন! শরীফ চৌধুরীর শ্বাসকষ্টের রোগ বেড়ে যায়! হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন আফসানা বেগম! হাসপাতালের দূরত্ব মাত্র সাতাশ কিলোমিটার! অথচ আফসানা বেগমের কাছে যেন সাতাশ যুগের মতো! অবশেষে সকল ভালোবাসা রেখে শরীফ চৌধুরী পাড়ি দেন পরকালের দিকে! আর্তনাদ বাড়ে আফসানা বেগমের! তার যে শেষ কথা শুনা হয়নি! এভাবেই গল্পকার তুলে ধরেছেন সাতাশ কিলোমিটারের দাম্পত্যজীবন! সামগ্রিক দিক বিবেচনায় নামটি সার্থক হয়েছে।
‘সাতাশ কিলোমিটারের দাম্পত্য’ গ্রন্থের শেষগল্প ‘বিচ্ছেদ’। এ গল্পের মূল চরিত্র মিরা। কাজ করে নোভাদের বাসায়। নোভার মা-বাবার সেপারেশন হয়ে গেছে। মিরারও তাই! দুটি বাচ্চা! উকিলের পরামর্শে বাচ্চাদের কাছে পেতে চায়! মিরার স্বামী জসিম উদ্দিন অন্যত্র বিবাহ করে নেয়! একদিন ভুলক্রমে মিরার নাম্বারে ফোন চলে আসে তার প্রাক্তন স্বামীর! এতেও গভীর আনন্দ মিরার! এখানেই বাঙালি নারীর আনন্দের ব্যবচ্ছেদ ঘটেছে। তারা যাকে একবার ভালোবাসে, তাকেই সারাজীবন ভালোবাসে! কিন্তু পুরুষ কী ভালোবাসে সারাজীবন এ প্রশ্নের মধ্য দিয়েই এগিয়ে গিয়েছে গল্পের প্লট।
উপস্থাপক, সাংবাদিক কিংবা গল্পকার তিনটি বিশেষণেই সার্থক তাসলিমা খানম বীথির মননী ভুবন। গল্প ছাড়াও তিনি লিখে চলেছেন ভ্রমণকাহিনি, কবিতা, প্রবন্ধ এবং ফিচার। এছাড়া সিলেটের বিদগ্ধ ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নিয়েও তিনি একটি উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন। ব্যক্তির বহুমাত্রিক চিন্তায় তাসলিমা খানম বীথি অর্জন করেছেন পুরস্কার ও সম্মাননা। তাঁর চমৎকার গল্পের গাঁথুনি এবং বিষয়বস্তু এর যথার্থতা প্রকাশ করে। আলোচ্য ‘সাতাশ কিলোমিটারের দাম্পত্য’ গ্রন্থে এ বিষয়টি চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। চকচকে প্রচ্ছদ, চমৎকার ছাপা এবং আধুনিক ঋদ্ধ বাঁধাইয়ের এ গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে সিলেটের সৃজনশীল প্রকাশনা সংস্থা ‘দোআঁশ’। প্রচ্ছদ করেছেন প্রকাশক লুৎফুর রহমান তোফায়েল নিজেই। গ্রন্থটির শুভেচ্ছামূল্য রাখা হয়েছে ২০০ টাকা মাত্র। আমি গল্পকারের সার্বিক কল্যাণ ও সাফল্য কামনা করি।
লেখক : কবি, প্রাবন্ধিক ও সাহিত্য সমালোচক।