নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে মৃত ৬১৬, নিখোঁজ শত শত
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : 29 August 2026, 6:17 PM
নেপাল-চীন সীমান্তসংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিব্বতের অংশেও আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
শনিবার সকালে নেপাল পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চিতওয়ানে ২৩৩টি, পূর্ব নওয়ালপরাসিতে ১৫৮টি, গোর্খায় ৪৮টি, পশ্চিম নওয়ালপরাসিতে ৪৭টি, ধাদিংয়ে ৪৫টি, নুয়াকোটে ৪১টি, তানাহুনে ৩১টি এবং রাসুয়ায় ১৩টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বন্যার আবর্জনা ও ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক পরিষ্কার করে যোগাযোগব্যবস্থা সচল করার চেষ্টা চলছে।
গত বুধবার নেপাল-চীন সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় হিমবাহ ধসে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নদীতে নেমে আসে। এর ফলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদামাটির স্রোত সৃষ্টি হয়। ভেসে যায় ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন অবকাঠামো। পরে পানির প্রবল স্রোত ত্রিশূলী নদীসহ ভাটির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
বন্যার স্রোতে মরদেহ ও মানবদেহের বিভিন্ন অংশ মূল দুর্যোগকবলিত এলাকা থেকে অনেক দূরের জেলাগুলোতেও পৌঁছে গেছে। ফলে উদ্ধার অভিযান যত এগোচ্ছে, মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। আরও মরদেহ উদ্ধারের আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।
দুর্যোগের কারণে বেশ কয়েকটি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। ধ্বংস হয়েছে বহু সেতু ও সড়ক। দ্রুত যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধারে নেপাল ভারত ও চীনের কাছে বেইলি সেতু চেয়েছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় বিদেশি সহায়তার বিষয়ে নেপাল সরকার জানিয়েছে, সাধারণ অনুসন্ধান ও উদ্ধারকাজে আপাতত বিদেশি দলের প্রয়োজন নেই। তবে যেসব ক্ষেত্রে বিশেষায়িত ও কারিগরি দক্ষতা প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল রয়টার্সকে বলেন, টানেলে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধার, সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়া এলাকায় যোগাযোগ পুনঃস্থাপন, মরদেহ শনাক্তকরণ, ডিএনএ পরীক্ষা এবং দীর্ঘ সময় মরদেহ সংরক্ষণের মতো কাজে বিদেশি কারিগরি সহায়তা প্রয়োজন।
কাঠমান্ডু পোস্টের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশ নেপালকে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল দিয়ে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
দুর্যোগের পর থেকে নেপালে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা এবং প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধার তৎপরতাকে জটিল করে তুলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এম এইচ আ



