খেলোয়াড়দের স্বার্থ সবার আগে
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন ঘিরে ঢাকার ক্লাবগুলোর মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। ঢাকা ক্রিকেট ক্লাব অর্গানাইজার্স অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে ৪৩ ক্লাব একজোট হয়ে সিসিডিএমের আওতাভুক্ত সব লিগ বর্জনের হুমকি দিয়েছে। বোর্ড গঠিত হওয়ার পরই ১৮ নভেম্বর থেকে ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ শুরু করতে চেয়েছিল সিসিডিএম। গত নভেম্বরে হয়েছে দলবদলও। তবে লিগ বর্জন করা আটটি ক্লাবের কেউ-ই দলবদলে অংশ নেয়নি। এমন অবস্থায় কয়েক দফা পিছিয়ে গেছে টুর্নামেন্ট শুরুর সময়। মাঝে ক্লাবগুলোর সঙ্গে বসে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও সেটি কাজে আসেনি। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবও চেষ্টা চালিয়েছে। তবে তাদের কাউকে রাজি করাতে পারেনি। সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত গতকাল থেকে শুরু হয়েছে প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগ। খেলা মাঠে গড়ানোয় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন বিসিবি সহসভাপতি মো. শাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই ভালো বিষয় যে শেষ পর্যন্ত খেলাটা মাঠে গড়াল।’
বিসিবি ২০ দলকে দুটি গ্রুপে ভাগ করে লিগের চূড়ান্ত সূচি প্রকাশ করেছে। ‘এ’ গ্রুপে পারটেক্স, গাজী টায়ার্স, আম্বার স্পোর্টিং ক্লাব, বাংলাদেশ পুলিশ ক্রিকেট ক্লাব, লালমাটিয়া ক্লাব, ওল্ড ডিওএইচএস স্পোর্টস ক্লাব, কলাবাগান ক্রীড়াচক্র, ঢাকা ইউনাইটেড এবং বাারিধারা ড্রেজলার্স। ‘বি’ গ্রুপে আছে শাইনপুকুর ক্রিকেট ক্লাব, উত্তরা ক্রিকেট ক্লাব, খেলাঘর সমাজ কল্যাণ স্মৃতি, শেখ জামাল ক্রিকেটার্স, সূর্যতরুণ ক্লাব, প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাব, কাকরাইল বয়েজ ক্লাব, ট্রাই স্টেট ক্রিকেটার্স, ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব, বিকেএসপি।
প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগের সূচিতে নাম থাকলেও অংশগ্রহণ না করা ক্লাবগুলো হলোÑ পারটেক্স স্পোর্টিং ক্লাব, গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমি, আম্বার স্পোর্টিং ক্লাব, খেলাঘর এসকেএস, সূর্যতরুণ ক্লাব, কাকরাইল বয়েজ ক্লাব, কলাবাগান ক্রীড়া চক্র ও ওরিয়েন্ট স্পোর্টিং ক্লাব। এই ক্লাবগুলো লিগে অংশ না নেওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন অনেক ক্রিকেটার। শাখাওয়াত হোসেন জানান, তাদের কাছে সবার আগে খেলোয়াড়দের স্বার্থ। তিনি বলেন, ‘যে ক্লাবগুলো আসেনি, যে প্লেয়ারগুলো খেলতে পারছে না তাদের জন্য আমরা বোর্ড থেকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করব। বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে আমরা দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। আমরা সবাই খেলোয়াড়দের স্বার্থটা দেখব। কারণ খেলোয়াড়রা ছাড়া খেলার কোনো মানে নেই এবং ক্রিকেট বোর্ডেরও কোনো মানে নেই বা ক্রিকেটের কোনো উন্নতি হবে না। আমাদের খেলোয়াড়দের রাইটস এবং তাদের বেনিফিটসটা আগে খেয়াল করতে হবে। এরপর বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সমুন্নত রাখার জন্য যা যা করা দরকার তাই করব।’ শাখাওয়াত হোসেনের চাওয়া, খেলোয়াড়রা যেন খেলতে পারেন। তিনি বলেন, ‘শুধু একটা কথাই বলতে চাচ্ছি যে, খেলোয়াড়রা যেন খেলতে পারেন এবং আমরা যেন ভালো খেলোয়াড় পাই, পাইপলাইন যেন আমাদের শক্ত হয় এবং আমাদের ন্যাশনাল টিমে যেন আরও ভালো খেলোয়াড় আমরা পাই।’ ক্লাব কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করার মধ্য দিয়ে তারা সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্লাবগুলো তো অনেক বড় স্টেকহোল্ডার এই ক্রিকেটে তাদের বিনিয়োগ আছে এবং তাদের পৃষ্ঠপোষকতা আছে, তারা আমাদের প্লেয়ারদের জন্য অনেক কিছু করে এই ক্রিকেটে বিনিযোগ করেন ক্লাব কর্মকর্তারা। তাদের বিষয়টিও আমাদের মাথায় আছে। তাদেরও কীভাবে আরও ইনভলব করা যায় এবং ইনভলব করে খেলাকে আগানোর জন্য যা কিছু করা দরকার, আমরা সেটি করব। আমরা প্রত্যেক স্টেকহোল্ডার, খেলোয়াড় হোক, জেলা বিভাগের ক্লাব হোক কিংবা ঢাকা সিসিডিএম হোক, যারা ক্রীড়া অনুরাগী ক্রীড়া পৃষ্ঠপোষক এবং খেলাকে নিয়ে যারা ভাবেন, ক্রীড়া সংগঠক যারা, তাদের সবাইকে একত্রিত করে আমাদের বোর্ড চালাতে হবে। নইলে আমাদের মূল ফোকাসের জায়গা যেটি ক্রিকেট এবং খেলা ক্রিকেটকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার যে একটা পরিকল্পনা এই পরিকল্পনাটা একটু অপূর্ণ থাকবে। আমরা পুরোপুরি পূর্ণতা দিতে সবার সঙ্গে আবারও ডিসকাশন করব এবং বিশেষ করে খেলোায়াড়দের যে বিষয়টি ইমিডিয়েট যারা খেলতে পারছে না, তাদের ব্যাপারটা আমরা জরুরি ভিত্তিতে দেখব।’
এদিকে উদ্বোধনী দিনে পিকেএসপির-২ নম্বর মাঠে পারটেক্স-বারিধারা, বিকেএসপির-৩ নম্বর মাঠে গাজী টায়ার্স-ঢাকা ইউনাইটেড, বিকেএসপির-৪ নম্বর মাঠে আম্বার স্পোর্টিং ক্লাব-কলাবাগান, মিরপুরে বাংলাদেশ পুলিশ-ওল্ড ডিওএইচএস এবং আমিনবাজারের সিলিকন সিটি গ্রাউন্ডে লালমাটিয়া ও ধানমন্ডি ক্রিকেট ক্লাবের ম্যাচ ছিল। তবে পাঁচটি ম্যাচের মধ্যে তিনটিতেই ওয়াকওভারের ঘটনা ঘটেছে। চারটি ক্লাব তাদের নিজ নিজ ম্যাচে অনুপস্থিত থাকায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবনমিত হয়েছে। ক্লাবগুলো হলোÑ পারটেক্স, গাজী টায়ার্স, কলাবাগান ও আম্বার স্পোর্টিং ক্লাব।





