সাপের আতঙ্কে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ০২ আগস্ট ২০২৩, ৬:৪৮ অপরাহ্ণ
সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রব অনেক বেড়ে গেছে। ছাত্র এবং ছাত্রী হলেও পাওয়া গেছে সাপ। এর প্রধান কারণ ক্যাম্পাস লতাপাতায় আচ্ছাদিত হয়ে জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। জানা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্র আগাছা দ্বারা আচ্ছাদিত।
বুধবার (২ আগস্ট) বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ হাসিনা হলের এক শিক্ষার্থী ফজরের নামাজের জন্য ওযু করতে গিয়ে সাপ দেখতে পায়। এর আগেও শেখ হাসিনা হলের ১০০৩ নম্বর কক্ষে সাপ পাওয়া গিয়েছিল। এক সপ্তাহ আগে শেরে বাংলা হলের ৩য় তলায় পাওয়া যায় বিষধর সাপ। বঙ্গবন্ধু হলের ৫ম তলার ওয়াসরুমে এবং হলের নিচেও সাপ পাওয়া গিয়েছিল।
এ ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে টিএসসির পিছনে রাস্তার পাশে, হলের গেস্টরুমে, হলের সামনে থেকে অনেকবার সাপ মারা হয়েছে। একাডেমিক ভবনের আশপাশেও দেখা যায় সাপের আনাগোনা। এতকিছুর পরও সাপ নির্মূলে কিংবা আগাছা পরিষ্কারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি প্রশাসন।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, আমরা আগে গরমের সময় ফ্লোরে ঘুমাতাম। কিন্তু এখন আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি অনেক সময় হলের ভেতরে সাপ ঢুকে যায়। তা ছাড়া ক্যাম্পাসের ল্যাম্পপোস্টগুলোর বেশিরভাগই নষ্ট। রাতে হাঁটাচলা এখন বিপজ্জনক অধিকাংশ স্থানে আলো নেই বলে চলে।
আইন বিভাগের শিক্ষার্থী কাফি মৃধা বলেন, ক্যাম্পাসের সব জায়গায়ই এখন সাপ পাওয়া যাচ্ছে। আমরা সবসময় আতঙ্কে থাকি। ৫০ একরের ক্যাম্পাসে আগাছার জন্য পা রাখার জায়গা নেই। কিন্তু প্রশাসনের এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যায়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে অ্যান্টিভেনম আছে কিনা জানতে চাইলে সিনিয়র মেডিকেল অফিসার শাম্মী আরা নিপা জানান, মেডিকেল সেন্টারে সাপে কামড়ের কোনো চিকিৎসা নেই। শুনেছি সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রব অনেক বেড়েছে। তবে এখন মেডিকেল সেন্টারে কোনো সাপে কাটা রোগী আসেনি।
এ বিষয়ে জানতে শেখ হাসিনা হলের প্রাধ্যক্ষ ড. রেহেনা পারভিনকে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. সাইদুজ্জামান বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় এত বড় ক্যাম্পাস পরিষ্কার রাখা দুষ্কর। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য এবং মালি হিসেবে মাত্র ৬ জন লোক আছে। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে ২ জন ভিসি স্যারের দপ্তরে অন্য কাজ করে। আরো ১ জন মসজিদ পরিষ্কারসহ অন্যান্য দপ্তরে কাজ করে।বর্তমান ভিসি স্যারের আমলে পরিচ্ছন্নতার জন্য কোনো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলমান আছে।
সাপ নির্মূলে কার্বলিক এসিড দেওয়া কিংবা কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, একাডেমিক ভবনের আশপাশে আমার প্রায়ই কার্বলিক এসিড এবং ব্লিচিং পাউডার দেই। হলের বিষয়তো আমরা দেখবো না, হল প্রশাসন দেখবে।
শিক্ষাঙ্গন/আবির





