পোশাকের ন্যায্য মূল্য দিচ্ছে না ক্রেতারা, দাম বাড়ানোর আহ্বান
সিকডে
প্রকাশিত হয়েছে : ২৪ আগস্ট ২০২২, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণতৈরি পোশাক শিল্পে চরম গ্যাসসংকট চলছে। সেই সঙ্গে আছে বিদ্যুৎসহ নানা রকম সমস্যা। এসব কারণে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে অনেক। অথচ বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ক্রয়মূল্য বাড়াচ্ছে না।
শিল্প বাঁচাতে এবং শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির জন্য পোশাকের ন্যায্য মূল্য দিতে ক্রেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সহসভাপতি ফজলে শামীম এহসান। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে বিকেএমইএ ও স্টিচ কনসোর্টিয়ামের মধ্যে দুটি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তৈরি পোশাক কারখানায় নারীবান্ধব কর্মপরিবেশের উন্নয়ন ও ফেয়ার প্রাইস অ্যাপ ব্যবহার বিষয়ে এ চুক্তি হয়।
ফজলে শামীম এহসান বলেন, ‘বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো এই সংকটকালীন ৩০ সেন্টও মূল্য বাড়াতে রাজি হচ্ছে না। এটা আসলে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর মানসিকতার সমস্যা। কিন্তু আমরা তাদের কাছে আমাদের তৈরি পোশাকের ন্যায্য মূল্য চাই। ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনে রাখতে হবে, আমরা না টিকলে তারা কম দামে পোশাক কিনতে পারবে না। ’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে পোশাকশিল্পে চরম শ্রমিকসংকট রয়েছে। পরিস্থিতি এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মাইকিং করেও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, কয়েকটি কারণে মূলত শ্রমিকসংকট দেখা দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে করোনা-পরবর্তী সময়ে বিশ্ববাজার থেকে প্রচুর রপ্তানি আদেশ এসেছে। এতে করে কারখানাগুলোতে অনেক শ্রমিক নেওয়া হয়েছে। বয়স হয়ে যাওয়ায় অনেক শ্রমিক চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। আর গ্রামীণ অর্থনীতি ভালো হওয়ায় অনেক শ্রমিক গার্মেন্টসের কাজ ছেড়ে গ্রামে চলে যাচ্ছে।
দুই. চুক্তির বিষয়ে তিনি জানান, এ চুক্তির উদ্দেশ্য হচ্ছে তৈরি পোশাক কারখানায় জেন্ডারবান্ধব কর্মপরিবেশের উন্নয়ন এবং পণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণে ফেয়ার প্রাইস অ্যাপ ব্যবহার করে ব্র্যান্ডের সঙ্গে দর-কষাকষির বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ফজলে শামীম এহসান ছাড়া বিকেএমইএ সহসভাপতি আকতার হোসেন অপূর্ব, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের অর্থনীতিবিষয়ক ফার্স্ট সেক্রেটারি বাস ব্লাউ, ফেয়ার উইয়ার ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক আলেকজান্ডার কন্সটাম, স্টিচের কনসোর্টিয়াম কো-অর্ডিনেটর মুই কালান্দার প্রমুখ।
এ চুক্তির বিষয়ে আরো জানানো হয়, বিকেএমইএ এবং স্টিচ কনসোর্টিয়াম পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে জেন্ডার সংবেদনশীল কর্মপরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে। নারীর জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক কর্মপরিবেশ সৃষ্টি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যৌন হয়রানিসহ সব ধরনের জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা দূর করা জরুরি।
এই বিষয়টিকে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বিকেএমইএ এবং স্টিচ কনসোর্টিয়াম বিকেএমইএর সদস্য ফ্যাক্টরিগুলোতে ‘যৌন হয়রানির অভিযোগ গ্রহণকারী কমিটি’ গঠন ও সেগুলোকে কার্যকর করার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে একমত হয়েছে। কমিটিগুলো গঠিত হবে হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী।
অ্যাপটি ব্যবহার করে একটি ফ্যাক্টরির শ্রমিকের পেছনে কত খরচ হচ্ছে, তা হিসাব করা যায়। তাই এর মাধ্যমে ফ্যাক্টরি ও ব্র্যান্ড ফ্যাক্টরির সঠিক শ্রমমূল্যের ভিত্তিতে পণ্যের দর নির্ধারণ করতে পারে।
এটা এক অর্থে আরো স্বচ্ছতার সঙ্গে খরচের হিসাবের মধ্য দিয়ে মজুরি বাড়ানোর একটা উপায়।
অর্থ ও বাণিজ্য / এ






