ভবিষ্যৎ তহবিলে শতকোটি টাকার বকেয়া, মৌলভীবাজারে অনিশ্চয়তায় চা-শ্রমিক পরিবার
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত হয়েছে : ১২ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৫ অপরাহ্ণ
চা-শ্রমিকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (পিএফ)–এ শতকোটি টাকার বেশি বকেয়া জমা না পড়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো শ্রমিক ও তাদের পরিবার। দীর্ঘদিনের এই জটিলতা এখন চা-বাগান শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সঞ্চয় নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।
চাকরিজীবনের শেষে নিরাপদ জীবনের আশায় যে প্রভিডেন্ট ফান্ড গড়ে ওঠার কথা, সেই তহবিলই এখন অনিয়ম ও বকেয়ার ভারে জর্জরিত। নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের বেতনের একটি অংশ ও মালিকপক্ষের সমপরিমাণ অর্থ মিলিয়ে তহবিলে জমা হওয়ার কথা থাকলেও ৫৮টি চা-বাগানে দীর্ঘদিন ধরে সেই অর্থ জমা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
ফলে অবসরকালীন সঞ্চয় নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন চা-শ্রমিকরা। অনেকেই অভিযোগ করছেন, বছরের পর বছর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও বাস্তবে কোনো সমাধান আসেনি।
চা-শ্রমিক ভবিষ্য তহবিল নিয়ন্ত্রক দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের বেতনের ৭ দশমিক ৫ শতাংশ ও মালিকপক্ষের সমপরিমাণ অর্থ মিলিয়ে মোট ১৫ শতাংশ জমা হওয়ার কথা। কিন্তু সেই নিয়ম বহু বাগানে মানা হয়নি।
দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একাধিক চা-বাগানের বিরুদ্ধে মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে কিছু বাগানের বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকলেও অধিকাংশের বকেয়া আদায়ের প্রক্রিয়া এখনও চলমান।
চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা বলছেন, শ্রমিকদের সীমিত আয়ের মধ্যেও প্রভিডেন্ট ফান্ডই ছিল ভবিষ্যতের একমাত্র ভরসা। সেই সঞ্চয় নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় তাদের জীবন আরও সংকটে পড়েছে।
একজন শ্রমিক নেতা বলেন, “আমাদের আয় কম, তারপরও ভবিষ্যতের জন্য সামান্য কিছু জমা রাখা হয়। সেটাই যদি অনিশ্চিত থাকে, তাহলে জীবন চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।”
অন্যদিকে কয়েকটি চা-বাগান কর্তৃপক্ষ আর্থিক সংকট ও লোকসানের কথা তুলে ধরে বকেয়া জমা দিতে দেরির কথা স্বীকার করেছে।
চা-শ্রম অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বকেয়া আদায়ে তাগিদপত্র, পরিদর্শন ও ট্রাস্টি বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কিছু অর্থ আদায় হলেও বড় অংশ এখনও অনাদায়ী রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি এই অনিয়ম সমাধান না হলে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমনির্ভর খাত চা-শিল্পে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।




