সুনামগঞ্জের এক জমিতেই ৫১ জাতের ধান চাষ
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : ০৩ মার্চ ২০২৬, ৮:১৩ অপরাহ্ণ
হাওরাঞ্চলের কৃষকদের জন্য ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)। প্রথমবারের মতো একটি মাত্র জমিতে ৫১টি ভিন্ন জাতের ধান চাষ করে তৈরি করা হয়েছে ‘রাইস মিউজিয়াম’। এতে একসঙ্গে নানা বৈশিষ্ট্যের ধান দেখে তুলনা করার সুযোগ পাচ্ছেন কৃষকরা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাংহাই হাওরপারের উজানীগাঁও গ্রামের কাছে ব্রি’র সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্যোগে এবং এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে ৮ শতক জমিতে এই প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। পাশাপাশি সারিবদ্ধভাবে রোপণ করা ৫১টি জাতের প্রতিটি ধানের পাশে নামসংবলিত স্টিকার লাগানো হয়েছে, যাতে সহজেই জাত চেনা যায়।
প্রতিদিনই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা ‘রাইস মিউজিয়াম’ দেখতে ভিড় করছেন। উজানীগাঁও গ্রামের কৃষক আব্দুর রহিম বলেন, ‘এতগুলো জাত একসঙ্গে আগে দেখিনি। এখন বুঝতে পারব কোন জাত বেশি ফলন দেয়, কোনটি রোগ কম ধরে।’
একইভাবে সুলতানপুর গ্রামের কৃষক মো. আব্দুল মতিন জানান, বিভিন্ন ধরনের চিকন, মোটা, সুগন্ধি ও উন্নত জাত একসঙ্গে দেখে তারা আগামীর চাষ পরিকল্পনা করতে পারছেন।
এই প্লটে ব্রি উদ্ভাবিত বাসমতী টাইপের ব্রি ধান-১০৪, জিংকসমৃদ্ধ ব্রি ধান-১০২, জিরা টাইপের ব্রি ধান-১০৮, স্বল্প জীবনকালীন ব্রি ধান-৮৮সহ উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন একাধিক জাত রোপণ করা হয়েছে।
ব্রি’র সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ও ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. রেজওয়ান ভূঁইয়া বলেন, কৃষকরা সাধারণত হাতে গোনা কয়েকটি জাত চাষ করেন। অথচ আরও অনেক উন্নত ও সহনশীল জাত রয়েছে। এই প্রদর্শনী প্লটের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি দেখে উপযোগী জাত নির্বাচন করতে পারবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক জানান, সুনামগঞ্জের ১৩৭টি হাওরে প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫০৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়। বছরে প্রায় ১৪ লাখ টন ধান উৎপাদিত হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। প্রায় ১০ লাখ কৃষক এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
তিনি বলেন, ‘হাওরের পরিবেশে কোন জাত ভালো ফলন দেবে এবং রোগ প্রতিরোধে সক্ষম হবে তা বুঝতে এই রাইস মিউজিয়াম কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’
সিলেট সংবাদ/আবির




