ফুল দেওয়া নিয়ে হট্টগোল, বিএনপিকে কঠিন বার্তা দিলেন রুমিন ফারহানা
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩২ পূর্বাহ্ণ
একুশে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার সময় হট্টগোলের সম্মুখীন হন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। পরে বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি। একই সঙ্গে বিএনপির উদ্দেশে কঠিন বার্তা দিয়েছেন তিনি।
গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে সরাইল উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে হট্টগোলের এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে কর্মী-সমর্থকদের প্রহরায় শহীদ মিনার এলাকা ত্যাগ করেন রুমিন ফারহানা।
এদিকে এ ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর প্রথম গেট এলাকা প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন রুমিন ফারহানার কর্মী সমর্থকরা। এ সময় তারা সড়কের ওপর আগুন জ্বালিয়ে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রুমিন ফারহানা।
পরে বিষয়টি নিয়ে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘বিএনপির কিছু লোক আমার নেতাকর্মীদের ওপর রীতিমতো হামলা করেছে। আমাকে একপাশে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়।’
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘বিএনপিকে বলব, ১৭ বছর পর তারা ক্ষমতায় এসেছে। লোকাল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির নতুন সরকার এসেছে। আশা করি, তারা দল ও সরকার হিসেবে এসব উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের ব্যাপারে তড়িৎ ব্যবস্থা নেবে।’
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে সরাইল উপজেলা সদরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে রাত ১১টা ৫০ মিনিটে উপস্থিত হন রুমিন ফারহানা। এ সময় তার সঙ্গে কয়েক শ সমর্থক ছিলেন। সমর্থকদের কয়েকজন এ সময় তাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্লোগান দেন। রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন রুমিন ফারহানা। এ সময় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মীকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
১২টা এক মিনিট বাজার সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান তিনি। একই সময়ে ফুল দিতে আসেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির বর্তমান সদস্য আনোয়ার হোসেন মাস্টার। এ সময় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শহীদ মিনারের আশপাশে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। অনেকেই জুতা পায়ে শহীদ মিনারে উঠে পড়েন। শহীদ মিনারে দেওয়া ফুলও ছিঁড়ে ফেলা হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত সাড়ে ১২টার দিকে রুমিন ফারহানার কয়েক শ সমর্থক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শাহবাজপুর এলাকায় অবরোধ করেন। তারা লাঠিসোঁটা হাতে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেন। এ সময় তারা আনোয়ার হোসেন মাস্টারের বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে থাকেন। পরে সরাইল থানা ও খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রাত দেড়টার দিকে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে অবরোধকারীরা সরে দাঁড়ান।




