জনতার মেয়র থেকে সংসদে ‘ম্যাজিক ম্যান’ আরিফ
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে মনোনয়ন নিশ্চিত হয়েছিল সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর। তাও নিজের রাজনৈতিক ঘাঁটি সিলেট নগর ও সদর উপজেলা (সিলেট-১) ছেড়ে অপেক্ষাকৃত কঠিন হিসেবে বিবেচিত সিলেট-৪ (জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ) আসনে।
দলের অভ্যন্তরে তখন গুঞ্জন ছিল-এ আসনে পাঠিয়ে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. জয়নাল আবেদীনের কাছে হারলে আরিফ রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়বেন—এমন বিশ্লেষণও ছিল বিএনপির ভেতরেই।
কিন্তু সেই সব হিসাব-নিকাশ উল্টে দিয়ে শেষ পর্যন্ত ‘ম্যাজিকম্যান’ খ্যাত আরিফুল হক চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জয়নাল আবেদীন পেয়েছেন ৭১ হাজার ৩৯১ ভোট।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও একসময় ওয়ার্ড কমিশনার হিসেবে রাজনীতি শুরু করা আরিফ জাতীয় সংসদে প্রবেশ করলেন নতুন পরিচয়ে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন পর সিলেট-৪ আসনটিও বিএনপির দখলে ফেরালেন তিনি।
আরিফুল হক চৌধুরী বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। এর আগে তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। এর আগে তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিলেট সিটি করপোরেশনের দু’বারের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু এ আসনে দলটির চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে মনোনয়ন দেয় বিএনপি। এরপর সংসদ নির্বাচনে নামবেন কিনা- এটা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলেন তিনি। শেষ মুহূর্তে মৃত্যুর আগে দলীয় প্রধান খালেদা জিয়ার হাত থেকেই নিলেন সিলেট-৪ আসনে বিএনপির টিকিট।
কিন্তু এ আসনটি আরিফের চেনা-জানা থাকলেও ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাকে ঠেকাতে বিএনপির আরেক নেতা হাকিম চৌধুরী প্রতিরোধের দেয়াল গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু আরিফ আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলছিলন- সুর তুলতে তিনদিন লাগবে। শেষ পর্যন্ত সবাইকে তাক লাগিয়ে প্রতিরোধ দেয়াল ভেঙে হাকিমকেও বশ করে নিলেন। অবশেষে সেই সুর তুলে ধানের শীষকে বিজয়ী করেই ঘরে ফিরেছেন আরিফ।
২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন আরিফ। সেই সঙ্গে তিনি তখন সিটি করপোরেশনের নগর উন্নয়ন ও পরিকল্পনা কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রয়াত মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানকে হারিয়ে প্রথমবার সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন আরিফ। এরপর ২০১৮ সালে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। তবে সর্বশেষ ২০২৩ সালে বিএনপি সিটি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তিনি প্রার্থী হননি।
নির্বাচিত হওয়ার পর আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, আমি নিজেও কল্পনা করতে পারিনি মাত্র দুই মাস কাজ করে জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কোম্পানীগঞ্জের মানুষ আমাকে আস্থায় নিবে। যে আস্থা নিয়ে তারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, সেটা কীভাবে পূরণ করবো সেই চিন্তা আমার মাথায় এখন থেকে কাজ করছে। তারা তাদের কাজ করেছে, এখন আমার দায়িত্ব তাদের আশা-আকাঙ্খা পূরণ করা।
তিনি বলেন, তারেক রহমান ওয়াদা করেছেন, প্রধানমন্ত্রী হলে আমাদের সকল ধরণের সহযোগীতা করবেন। এখন আমি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তার কাছে এই তিন উপজেলার মানুষের উন্নয়নে কাজ করে যাবো।
সিলেট সংবাদ/আবির




