বৈধ ভিসা ও টিকিট থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্য যেতে পারছেন না প্রবাসীরা
অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশিত হয়েছে : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ
বৈধ ভিসা, নিশ্চিত টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও যুক্তরাজ্যে যেতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়ছেন প্রবাসীরা। গত এক সপ্তাহে সিলেট ও ঢাকার বিমানবন্দর থেকে অন্তত ৪০ জন যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত যাত্রীকে বোর্ডিং পাস না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।
মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা সালাহ উদ্দিন যুক্তরাজ্যে ব্যবসা করেন। গত ২০ ডিসেম্বর স্ত্রী ও সন্তানকে যুক্তরাজ্যে রেখে দেশে আসেন তিনি। মেয়ের স্কুলের পরীক্ষা সামনে থাকায় ৩০ জানুয়ারি যুক্তরাজ্যে ফেরার উদ্দেশ্যে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যান। তবে বৈধ ভিসা ও নিশ্চিত টিকিট থাকা সত্ত্বেও তাকে বোর্ডিং পাস দেওয়া হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিমানবন্দর থেকেই ফিরে আসতে হয় তাকে।
শুধু সালাহ উদ্দিন নন, একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন আরো অনেকে। সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চেক-ইন কাউন্টারে বোর্ডিং পাস দেওয়ার সময় কম্পিউটার স্ক্রিনে ‘চেক ইন রেস্ট্রিকটেড, কন্ট্রাক্ট ইউকে বর্ডার ফোর্স’ লেখা বার্তা দেখানো হচ্ছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের যুক্তরাজ্যগামী ফ্লাইটে ওঠার অনুমতি মিলছে না।
ভুক্তভোগীদের অনেকে জানান, তাদের ভিসা ও ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস সম্পূর্ণ বৈধ। অনেকের কাছেই যুক্তরাজ্যের ই-ভিসা রয়েছে। তবু কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের বোর্ডিং পাস দেওয়া হচ্ছে না। এতে করে নন-রিফান্ডেবল টিকিটের অর্থ হারানোর পাশাপাশি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন অনেকে।
জানা গেছে, এই সমস্যার পেছনে যুক্তরাজ্যের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া বড় ভূমিকা রাখছে। যুক্তরাজ্য সরকার ধাপে ধাপে ফিজিক্যাল ভিসা ডকুমেন্ট (বিআরপি কার্ড) বাতিল করে ই-ভিসা চালু করছে। অনেক প্রবাসী বিআরপি থেকে ই-ভিসায় রূপান্তর করলেও নতুন পাসপোর্টের তথ্য ইউকেভিআই অ্যাকাউন্টে হালনাগাদ করেননি। ফলে এয়ারলাইন্সের সিস্টেমে যাচাইয়ের সময় ‘নো ভ্যালিড ভিসা’ বা ত্রুটি দেখাচ্ছে।
এছাড়া এয়ারলাইন্সগুলো যে ‘ইন্টারঅ্যাকটিভ অ্যাডভান্স প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’ (আইএপিআই) সিস্টেম ব্যবহার করে, সেখানে সার্ভার জটিলতার কারণেও যাত্রীর হালনাগাদ তথ্য কাউন্টারে সঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সালাহ উদ্দিন বলেন, “বছরে দুই–তিনবার দেশে আসি। কখনও এমন সমস্যায় পড়তে হয়নি। এখন স্ত্রী-সন্তান এক দেশে, আমি আরেক দেশে। এই অনিশ্চয়তা কবে কাটবে জানি না।”
আরেক যাত্রী শফিকুর রহমান বলেন, “আমি ও আমার স্ত্রী একই ধরনের ভিসায় যুক্তরাজ্য যাচ্ছিলাম। কিন্তু কাউন্টারে আমার স্ত্রীর বোর্ডিং পাস দেওয়া হলেও আমাকে দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্ত্রীকে একাই পাঠাতে হয়েছে। আমার টিকিটের পুরো টাকা নষ্ট হয়েছে।”
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, “এটি সিলেট বিমানবন্দর বা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিজস্ব কোনো সমস্যা নয়। বিষয়টি যুক্তরাজ্যের বর্ডার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তবে সমাধানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কাজ করছে।”
তিনি আরো বলেন, “এটি সাময়িকভাবে সিস্টেম আপগ্রেড বা বর্ডার ফোর্সের যাচাই প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে। আপাতত যাত্রীদের ব্রিটিশ হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
সিলেট সংবাদ/আবির





