জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অনেকেই সরকার গঠন করেছে, তাদের অনেক মহাপরাক্রমশালী ছিল, অনেক শক্তিশালী ছিল। কিন্তু তারা যখনই গণরায়ের বিরুদ্ধে গিয়েছে, গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তারা কিন্তু ইতিহাসের পাতা থেকে হারিয়ে গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে স্বাধীনতা দিবসে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর সব গণহত্যার বিচার বাংলাদেশে হবে।
তবে, সেটা যথাযথ প্রক্রিয়ায় করার ক্ষেত্রে আমরা বদ্ধপরিকর ছিলাম। আমরা আজকেও দাঁড়িয়ে বিচার চাইছি এবং বিচার আদায় করার জন্য আমরা কাজ করব।তিনি বলেন, বাংলাদেশে যখন ৭০-এর নির্বাচনে গণরায় একদিকে আসে এবং তাদের ক্ষমতা দেওয়া হয় না। পরবর্তীতে ৭১-এ স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশে ৯০-এ একই পরিস্থিতি হয়েছে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে। ১৭ বছরের নিষ্পেষণের পর মানুষ যখন তাদের কথা বলতে পারছিল না, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে যখন বারবার সরকার গঠন করে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদেরকেও কিন্তু পদদলিত করা হয়েছে।সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, এবারও গণরায়কে, যে গণভোটের রায়কে, জুলাই সনদকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে। গণরায়কে এক ধরনের ভূলুণ্ঠিত করে এই সরকার সামনের দিকে এগিয়ে চলতে চাইছে।
বাংলাদেশের মানুষ কিন্তু তাদেরকেও এই ইতিহাসের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ভূলুণ্ঠিত করতে দ্বিধা করবে না।আসিফ মাহমুদ বলেন, এত রক্তের বিনিময়ে যে সংস্কার এবং যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন আমাদের শহীদের পরিবারেরা দেখেছে, যে বাবা-মায়েরা দেখেছে, আমাদের সহযোদ্ধারা দেখেছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে হবে। এই জনরায় বাস্তবায়ন করা না হলে বাংলাদেশের যে ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটের পক্ষে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে, তারা কিন্তু রাজপথে নামতেও দ্বিতীয়বার ভাববে না। সুতরাং আপনারা জনগণের পক্ষে আসুন, যাতে আমরা একসঙ্গে মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়তে পারি। যদি জনগণের বিপক্ষে যান, তাহলে আমাদের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতা রক্ষার জন্যই আবারও মাঠে নামতে হতে পারে।