তারেক রহমানের আসনে কে হচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুটি আসনে জয়ী হওয়ার পর শপথের আগের দিন বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশন এখনও তফসিল ঘোষণা না করলেও কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৪ এপ্রিলের আগেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হতে পারে।
বগুড়া-৬ (সদর) আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। এর মধ্যে তিনবার এই আসনের প্রার্থী ছিলেন বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। সর্বশেষ নির্বাচনে এ আসনে ১৫০টি কেন্দ্রে মোট ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তার পুত্র তারেক রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পান ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। ফলে এবার উপনির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, বিশেষ করে জিয়া পরিবারের কাউকে প্রার্থী করা হবে কিনা, তা নিয়ে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে অবস্থানের পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পর থেকেই দলীয় কর্মসূচি, গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতি চোখে পড়ছে। সর্বশেষ নির্বাচনে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে বাবার পক্ষে প্রচারণায়ও অংশ নেন।
যদিও বিএনপিতে জাইমা রহমানের এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক পদ নেই, তবুও প্রবাসীদের নিয়ে দলের এক ভার্চুয়াল সভায় অংশগ্রহণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে বিএনপির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকার ঘটনায় তিনি আলোচনায় আসেন। ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীও অংশ নিয়েছিলেন।
দেশে ফেরার আগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক লেখায় জাইমা রহমান জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি নেপথ্যে থেকে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। দেশে ফিরে বাবাকে সহায়তা করার পাশাপাশি একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন : পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে নীতিগত আলোচনায় অংশ নেন জাইমা রহমান। এরপর বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে এবং একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীতেও তাকে দেখা যায়।
এদিকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে। পাশাপাশি দলের মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি একেএম মাহবুবুর রহমান, সাইফুল ইসলাম এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নামও আলোচনায় রয়েছে।
তবে বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, ডা. জুবাইদা রহমানের সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনা কম। সে ক্ষেত্রে উপনির্বাচনের মাধ্যমে জাইমা রহমানের সরাসরি রাজনীতিতে অভিষেক ঘটতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনও দলীয়ভাবে কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা আসেনি।
বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন বলেন, উপনির্বাচনে দলের চেয়ারম্যান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটিই তারা মেনে নেবেন।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ দুই আসন থেকেই নির্বাচিত হন তারেক রহমান। পরে তিনি ঢাকা-১৭ আসনের প্রতিনিধিত্ব করার সিদ্ধান্ত জানালে ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তিনি।
স্থানীয়ভাবে অনেকের প্রত্যাশা, উপনির্বাচনে জিয়া পরিবারের কাউকে প্রার্থী করা হলে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ সৃষ্টি হবে এবং আসনটি বিএনপির দখলেই থাকবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন সবার দৃষ্টি দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দিকেই।




