প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি নির্দেশনা
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তারেক রহমান যেন ‘রকেটের গতিতে’ ছুটছেন। ভোটের মাঠে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নিরন্তর এ ছুটে চলা তাঁর। রাত পর্যন্ত অফিস করছেন। ক্যাবিনেট মিটিংয়ের পাশাপাশি অনির্ধারিত মিটিং করছেন তিনি।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর গত দুই দিন সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে অফিস করেছেন তারেক রহমান।
জানা গেছে, গতকাল তেজগাঁও কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার অনির্ধারিত বৈঠকে নিজ নিজ বিভাগের কাজের অগ্রগতি জানতে চান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় দ্রুত সময়ের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেছেন, ‘আজ (শনিবার) ছিল তারেক রহমানের তৃতীয় কর্মদিবস। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা পলিসি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী গতকাল সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি। প্রধানমন্ত্রী হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই কার্যালয়েই অফিস করেন। দুই যুগের বেশি সময় পর গতকাল সেই কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তারেক রহমান। তাঁর আগমন ঘিরে সবাই সতর্ক অবস্থানে ছিলেন। অনেকটা নিরাপদ দূরত্বেই অপেক্ষমাণ ছিলেন আয়া, মালি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু অপেক্ষমাণ এই কর্মচারীদের মধ্যে নুরুল আমিন নামের একজনকে তাঁর ডাকনাম ধরে হাত দিয়ে ইশারায় ডাক দেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন অপেক্ষমাণ কর্মচারীর ভিড়েও প্রধানমন্ত্রী তাঁদের কাউকে চিনতে পেরেছেন—এতে তাঁদের মধ্যে তখন বাঁধভাঙা উল্লাস। নিরাপত্তা বলয়ের তোয়াক্কা না করেই প্রধানমন্ত্রী সামনে এসে হাজির সবাই। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ১০টা ২০ মিনিটে ‘রেড ব্লকে’ প্রবেশ করেন। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর চেম্বার বা কক্ষ। প্রধানমন্ত্রী সেখানে নিজের চেয়ারে বসেন এবং দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার বৈঠক করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ম্যাডাম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময়কার কর্মচারীদের কয়েকজনকে দেখে প্রধানমন্ত্রী নাম ধরে ডাকেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের পরিবারের খোঁজখবর নেন। এটা একটা স্মরণীয় ঘটনা।’
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরো বলেন, ‘ম্যাডামের সময় কাজ করেছেন এমন কয়েকজন কর্মচারী এখন প্রবীণ। তাঁদের চুল পেকে গেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁদের চিনতে ভুল করেননি। নিজেই নাম ধরে তাঁদের ডেকে কথা বলেছেন। ওই সময় কর্মচারীরা যেমন আবেগাপ্লুত হয়েছেন, তেমনি অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিস্মিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতা এবং ব্যবহারে।’
নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানী ভাতা দেওয়া হবে। তবে এই সম্মানী কত টাকা তা এখনো নির্ধারণ করেনি সরকার। ঈদের আগেই কয়েকটি এলাকায় এই কার্যক্রম শুরু করবে বলে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে গতকাল দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গেটে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। মাহদী জানান, নির্বাচনের আগে বিএনপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিবসহ বিভিন্ন ধর্মগুরুকে সম্মানী ভাতা প্রদান করা। ক্ষমতায় এসে সেই ধারাবাহিকতায় বিএনপি সরকার ঈদুল ফিতরের আগেই প্রাথমিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু করবে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশে তা চালু হবে।
বিএনপির নির্বাচনী প্রধান অঙ্গীকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে সরকারের পাইলট ভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে এরই মধ্যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণে সরকারের পাইলট ভিত্তিক কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ প্রসঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “আগামী ঈদুল ফিতরের আগেই সরকার পাইলট ভিত্তিতে বহুল আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হবে। ধাপে ধাপে দেশের সব পরিবারকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।”
এ বিষয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারেই ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল। এটি কিভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সে বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’
প্রথম ধাপে কত পরিবার কার্ড পাবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘কর্মসূচিটি হবে সর্বজনীন, কোনো বিধি-নিষেধ থাকবে না। তবে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং তাদের সুপারিশ অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ শুরু হতে পারে। প্রথমে অতি দরিদ্র, পরে দরিদ্র এবং এরপর মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’




