রহমত বরকত ও নাজাতের মাস শুরু
সিলেটের কন্ঠ ডেস্ক
প্রকাশিত হয়েছে : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ণ
শুরু হলো রহমত, বরকত ও নাজাতের মহিমান্বিত মাস- পবিত্র রমজান। আহলান সাহলান, মাহে রমজান।
বছর ঘুরে আবার আকাশে উঠেছে সিয়ামের চাঁদ। নেমে এসেছে রহমতের স্রোতধারা, করুণার জোয়ার। চারদিকে এক পবিত্র আবহ মুমিনের হৃদয়ে প্রশান্তি, আসমান-জমিনে ইবাদতের আমেজ। যেন জান্নাতেও আজ নতুন সাজ, নতুন সমারোহ। আল্লাহর অশেষ দয়া ও অনুগ্রহে সিক্ত বিশ্বজগৎ। স্রষ্টার রহমতের অংশীদার হতে চায় প্রতিটি প্রাণ। আমরাও চাই, এ মাসে নিজেদের জীবন ইমান, তাকওয়া ও নেক আমলের রঙে রাঙাতে।
রমজানের গুরুত্ব সম্পর্কে মহান আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর; যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ সুরা বাকারা: ১৮৩
রোজা কেবল উপবাস নয়; এটি আত্মসংযমের শিক্ষা, আত্মশুদ্ধির সাধনা এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য মাধ্যম। হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, কেয়ামতের দিন রোজা বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোজা বলবে, ‘হে রব! আমি তাকে খাদ্য ও প্রবৃত্তি থেকে বিরত রেখেছিলাম; অতএব তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ গ্রহণ করুন।’ তখন তার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে। -মুসনাদে আহমাদ: ৬৬২৬
আরও বর্ণিত আছে, ‘যখন রমজান আগমন করে, জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং শয়তানদের শৃঙ্খলিত করা হয়। Ñ সহিহ বুখারি : ৩১০৩
রমজানকে যথাযথভাবে বরণ করা প্রসঙ্গে বরেণ্য ফকিহ মুফতি তাকি উসমানি (দা.বা.) তার ‘ইসলাহি খুতুবাত’-এ লিখেছেন, রমজানকে সঠিকভাবে গ্রহণ করার উপায় হলো, আগেই একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা, যাতে বরকতময় মাসটি সর্বাধিক ইবাদত ও আমলে ব্যয় করা যায়। রমজান আসার আগেই মনকে প্রস্তুত করা, অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা কমানো এবং ঘর ও মসজিদে ইবাদতের পরিবেশ সৃষ্টি করা জরুরি।
সম্ভব হলে এ মাসে নিজেকে পার্থিব ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করতে হবে। তা না পারলে অন্তত যেসব কাজ স্থগিত রাখা যায়, সেগুলো পরে করার ব্যবস্থা করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমাতে হবে। এমন কাজ, যা রমজানের পরেও করা সম্ভব- তা পরেই করা উত্তম। সর্বোপরি রমজানের অধিকাংশ সময় যেন ইবাদত, তেলাওয়াত, জিকির ও দোয়ার মাধ্যমে অতিবাহিত হয় সে ফিকির রাখতে হবে। এভাবেই রমজানকে স্বাগত জানানোই উত্তম পন্থা। ইনশাআল্লাহ, এতে এ মাসের যথাযথ মর্যাদা রক্ষা হবে এবং রোজার নুর ও বরকত অর্জিত হবে।
আসুন, রমজানের প্রথম দিন থেকেই আমরা একটি সুনির্দিষ্ট রুটিন গ্রহণ করি। নামাজ, তেলাওয়াত, জিকির, দোয়া ও নেক আমলে নিজেদের নিয়োজিত রাখি। এ মাসকে আত্মগঠন, আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করি।
আল্লাহতায়ালা আমাদের সবাইকে রমজানের রহমত, বরকত ও নাজাত পূর্ণাঙ্গভাবে লাভ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।




